এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০২ নভেম্বর : ইসরায়েলের জাতীয় রাজনীতি এখন দোলাচলে । বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু’র দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি । নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে এবং আইজেনকোটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলোর আসন সংখ্যা ১৯ । কোনো পক্ষেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। বর্তমানে আলোচনা চলছে ; এখনো কোনো জোট চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১০ নভেম্বর নেসেট (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, তবে নতুন সরকার গঠন এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ-এর প্রক্রিয়াটি শুরু হবে প্রেসিডেন্ট হারজোগ সরকার গঠনের দায়িত্ব অর্পণ করার পর। এমতবস্থায় দেশের শাসনক্ষমতা ফের ধরে রাখতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফের ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর চাপে ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন আমেরিকান রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও সাংবাদিক টাকার কার্লসন(Tucker Carlson)। তিনি দাবি করেছেন যে,এই হামলার লক্ষ্য হতে পারে মধ্য ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ (Pickaxe Mountain), যেখানে ইরান পুনরায় পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে বলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করছে। কোনো প্রচলিত অস্ত্রই ৩০০ ফুট পুরু কঠিন গ্রানাইট শিলা ভেদ করতে সক্ষম নয়; তাই একমাত্র সামরিক বিকল্প হলো পারমাণবিক হামলা,বলে মনে করছেন তিনি ।টাকার কার্লসন এও দাবি করেছেন, নেতানিয়াহু এ বিষয়ে তীব্র চাপ দিচ্ছেন। একজন অবগত পর্যবেক্ষক বলেছেন, “বিবি (নেতানিয়াহু) এ নিয়ে প্রতিদিন ট্রাম্পকে ফোন করছেন।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী,গত সপ্তাহের নির্বাচনের ফলাফলের পর, ট্রাম্প সরাসরি ইসরায়েলি রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করলে নেতানিয়াহুর পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। তা না হলে, তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারাতে হবে এবং বিভিন্ন তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে। তার এই যুদ্ধটি প্রয়োজন। পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখা পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী সপ্তাহান্তের মধ্যে—৭ই নভেম্বরের আগে—ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বর্তমানে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পরামর্শ শুনছেন; তারা উভয়েই মনে করেন যে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। তবে একটি পক্ষকে এ বিষয়ে কোনো পরামর্শই দেওয়া হয়নি—আর তা হলো বিশ্বের সেই জনগোষ্ঠী পারমাণবিক হামলার শিকার হলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।।
