এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০২ নভেম্বর : ধর্মীয় কারনে নির্বিচারে পশুহত্যায় বাধা নেই, কিন্তু দিপাবলীতে আতসবাজি পোড়ানো হলে যত সমস্যায় পড়তে হয় অবলা পশুদের ! অন্তত কিছু তথাকথিত পশুপ্রেমিকদের ভূমিকায় এই বিষয় নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলে দেয় । ফি বছর তারা কালীপূজার পোস্টার হাতে রাস্তায় নামেন, যাতে দিপাবলীতে আতসবাজি না পোড়ানো হয় । তাদের কথায় এতে নাকি বড্ড কষ্ট পায় পথকুকুররা । এদিকে আগামী রবিবার কালীপূজা । তার আগেই কলকাতায় সক্রিয় হয়ে গেছে ওই সমস্ত তথাকথিত পশুপ্রেমিকরা ।
রবিবার কলকাতায় অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার-এর মিছিলে দেখা গেলে বামপন্থী অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকে । অভিনেত্রী এবং তার সঙ্গীসাথীদের হাতে দেখা গেল “উৎসব হোক আনন্দের,আতঙ্কের নয়” লেখা পোস্টার ।
সংবাদমাধ্যমকে শ্রীলেখা মিত্র বলেন,’মানুষের অজ্ঞতার কারনে অনেক কিছু করে । জানা থাকলে তারা হয়তো একটু সচেতন হবে । বয়স্ক মানুষ যাদের হার্টের ইস্যু আছে,এমনিই আমরা একা একা থাকতে থাকতে বেশি শব্দ সহ্য করতে পারিনা । ক্রিকেট ম্যাচ, কালীপুজো,দীপাবলি প্রভৃতি যেকোনো ক্ষেত্রেই… এখন থেকে কিন্তু বাজি ফোটানো চালু হচ্ছে । বাড়ির বাচ্চারা আৎকে আৎকে উঠছে, বিড়ালরা আলমারি তলায় ঢোকার চেষ্টা করছে, কুকুর…এরা আসলে আমাদের থেকে অনেক বেশি শুনতে পায়। মানে, প্রায় ৪৫ গুণ বেশি শোনে । অনেক সময় এদেরও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় । প্রত্যেকবার কালীপুজো ও দীপাবলীর সময় সমীক্ষা করে দেখা যায় যে, প্রত্যেক বছরের আক্রান্ত হয়, হয় হৃদরোগে মারা যায় । বাচ্চারা দেখবেন লেজের মধ্যে কালি ফটকা বেঁধে দিল । বোমা ফাটালো । এগুলোতো ক্রিমিনাল মনোভাব । ক্রিমিনাল প্রবৃত্তি একদম ছোট থেকেই মানুষের থাকে । সেই ধরনের হিংসা, নৃশংসতা আটকাতে আমরা নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে পথে নেমেছি যাতে আমাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মানুষ এই প্রকার কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসে ।’ অভিনেত্রীর অভিযোগ, আতসবাজির শব্দের ডেসিবেল আগের থেকে অনেক গুণ বেড়ে গেছে । তিনি এই বিশেষ সরকারকে সদর্থক ভূমিকা নেওয়ারও আহ্বান জানান ।
এদিকে অভিনেত্রীর এই প্রকার কথিত পশুপ্রেম দেখে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, “অবলা প্রাণী কড়াইয়ে কষা করুন মশলা দিয়ে ভালো লাগে ৷” আর একজন বলেছেন,”অবলা শুধু কুকুর আর বিড়াল। মুরগি, পাঠা,, শুয়োর , মাছ এরা সবলা …..।” একজন বলেছেন,”অবলা পশুপ্রেম খুবই ভালো কিন্তু খাওয়ার সময় খেয়াল থাকে না ।”
শিবনাথ সাহা নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, “মটন বিরিয়ানি চিকেন চাপ খেয়ে স্ব ঘোষিত পশু প্রেমী ।
সেদিন আপনাকে বাজারে খাসির মাংসের দোকানে লাইনে দেখলাম , আচ্ছা একটা প্রশ্ন :- বকরী ঈদে কোথায় থাকেন মাসিমা ? যদিও আমি শব্দ বাজির বিরুদ্ধে ।”
