এইদিন ওয়েবডেস্ক,গুয়াহাটি,২৮ আগস্ট : নেপাল থেকে আরও উদ্বেগজনক খবর আসছে । তিব্বত -নেপাল সীমান্তের কাছে চীনের তৈরি আর একটি বাঁধ ভেঙে পড়েছে বলে জানা গেছে, যার ফলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২৮.৩৩৩ উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৫.৪৭৭ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে দ্বিতীয়বারের মতো হিমবাহ হ্রদের আকস্মিক বন্যা (GLOF) সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে জলের মোট পরিমাণ ২৫ লক্ষ ঘনমিটার, যা প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা নিরাপদ ও উঁচু স্থানের দিকে সরে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে; একইসাথে চীন ‘গাইরং’ (Gyirong) সীমান্ত বন্দর থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিচ্ছে।
এরই মাঝে একটা চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে নেপাল করেসপন্ডেন্ট নামে একটি সংবাদমাধ্যম । ওই সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে,২০ দিন আগেই বন্যা সম্পর্কে জানত চীন । তিব্বতের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ কোর ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাসুওয়া বন্দরে বন্যা-পরবর্তী উদ্ধার ও স্থানান্তরের একটি মহড়া (drill) পরিচালনা করেছিল। অর্থাৎ, কী ঘটতে চলেছে তা তাদের জানা ছিল। গিরং কাউন্টি সরকারের উইচ্যাট (WeChat) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত সেই ভিডিওটি এখন আর দেখা যাচ্ছে না—সেটি সরিয়ে বা লুকিয়ে ফেলা হয়েছে। চীনা ভূখণ্ডের অন্তর্গত রাসুওয়ার ঠিক যে স্থানটিতে বন্যা আঘাত হেনেছিল, সেখানেই এই জরুরি উদ্ধার মহড়াটি চালানো হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমটি অভিযোগ করেছে, তারা(চিন) ইচ্ছাকৃতভাবেই নেপালের সাথে এই তথ্য শেয়ার করেনি। গিরং-এর ঘটনায় এমন অনেক তথ্যই গোপন রাখা হয়েছে, যা প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন।
এদিকে প্রথম দফার প্রলয়ঙ্কারী হড়পা বানে কমপক্ষে ৪৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে । মৃতদের অধিকাংশ ভারতসহ অনান্য দেশের পর্যটক । ১,৫০০ -এর বেশি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । যার পরিমান ২০০০০০ কোটি নেপালি টাকা । ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প । ১৫টির বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সেতু । ৭০ টির বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক । যার মধ্যে পাহাড়ি এলাকার ৪৪ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে । গত ৫০ ঘণ্টা ধরে নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির প্রায় ৩৫ জন কর্মী ত্রিশূলি ৩এ-র ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে আছেন। সুড়ঙ্গের ভেতরে অক্সিজেনের অভাব থাকায় প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; সামান্য বিলম্বও বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীনের অবিবেচক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন নির্মাণকাজের করুণ পরিনতি এটি। অধিকৃত তিব্বতে এই ধরনের প্রকল্প লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করতে পারে, ঘরবাড়ি ও জীবিকা ধ্বংস করতে পারে এবং নেপালি পরিবারগুলোকে শেষ করে দিতে পারে । কিন্তু চিনের তাতে কিছু যায় আসে না । এই প্রলয়ঙ্কারী হড়পা বানের পর প্রশ্ন উঠছে যে, কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটানোর অপরাধেই কি চিন নেপালকে এই শাস্তি দিল ? যদিও বর্তমানে খাস চিনেই কমিউনিস্টের নামে দলীয় স্বৈরতন্ত্র চলছে । এনিয়ে দেশের মধ্যে চরম ক্ষোভ রয়েছে ।।
