এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৮ আগস্ট : “কালীঘাট তৃণমূল” ও “নতুন তৃণমূল” এবারে উভয় পক্ষই পৃথকভাবে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করছে । একদিকে ক্যাথিড্রাল রোডে কালীঘাটপন্থীদের কর্মসূচি, অন্যদিকে ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে নতুন তৃণমূলপন্থীদের —সব মিলিয়ে দুই শিবিরের কর্মসূচিকে ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তর্জা । এদিকে ধর্মতলার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর অনুষ্ঠানে এক সময়ে মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ ঋজু দত্ত তার পূর্বের নেতৃত্বদ্বয়কে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করেছেন । মমতা-অভিষেক নতুন তৃণমূলকে বারবার “গদ্দার” বলে আক্রমণ করে আসছেন এবং আজও করেছেন । তারই উত্তরে ঋজু দত্ত বলেছেন,’তৃণমূলের সবচেয়ে বড় গদ্দার হল মমতা আর অভিষেক ।’ এমনকি অভিষেককে তিনি “স্বঘোষিত যুববার” বলে কটাক্ষ করে তাকে ‘চ্যাটার্ড মাফিয়া’ বলেও অবিহিত করছেন ।
ঋজু দত্ত বলেন,’এটাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস । আপনারা এত জোরে তৃণমূল কংগ্রেস জিন্দাবাদ স্লোগান দিন যাতে তারামণ্ডলের সামনে ওদের যে সার্কাসটা হচ্ছে সেখানে ওদের যেন হাঁটু কেঁপে ওঠে ।’ তিনি বলেন, এটাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস । ওটা পিসি ভাইপো কোম্পানির লিমিটেড । শুধু নাটক আর নাটক, নাটক ছাড়া কিছু হচ্ছে না । তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র, তৃণমূল কংগ্রেসের যুবরাজ চার তারিখের পর পাড়ায় পাড়ায় মার খাচ্ছে আর নেত্রী ও তার ভাইপো শুধু ফেসবুকে লাইভ করছে । এখানে যে নেতৃত্ব আছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, সন্দীপন সাহা, ববি হাকিম, অরূপ বিশ্বাসরা ছেলেদের পাশে থাকার জন্য দিনরাত লড়াই করছে । আর বলা হচ্ছে গাদ্দার ? আমি এই মঞ্চ থেকে বলছি তৃণমূল কংগ্রেসের এবং তৃণমূলের কর্মীদের সব থেকে বড় গদ্দারের নাম অভিষেক ব্যানার্জি আর মমতা ব্যানার্জি । এরাই হচ্ছে এই তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় গদ্দার ।’
তিনি মমতা ও অভিষেকের উদ্দেশ্যে বলেন,’কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ? কর্মীদের পাশে থেকে ছিলেন কখনো ? পার্টি অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছিল বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ? একবার বেরিয়েছিলেন যুবরাজ । ডিম খেয়ে গ্যারেজ হয়ে গেছে । তারপর আজ অব্দি বেরোনি । বড় বড় কথা ? কর্মীরা মার খাবে কর্মীরা ঘরছাড়া হবে, উত্তর কলকাতার যুব সভাপতি শান্তিরঞ্জন কুন্ডু তিন মাস বাড়িতে ঢুকতে পারেননি । আর উনি রাত্রে অমিতাভ বচ্চন সেজে ঘুরে বেড়াবেন । এটা হতে পারে না । আপনাকে কর্মীর সাথে থাকতে হবে । এই দল মা-মাটি-মানুষের দল । এই দল কর্মীদের দল । যারা আমাদের বলছে বিজেপির দালাল, আমরা গদ্দার, তারা বাড়িতে বসে ফেসবুকে লাইভ করছে৷’
তিনি ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক ব্যানার্জির কার্যালয়ের সাইনবোর্ড পুলিশের খুলে দেওয়াকে সমর্থন করে বলেছেন, ‘আমি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে স্যালুট জানাই যে আপনারা আবার আইনের কাজ করছেন ।কালকে আপনারা যে মুভমেন্ট করেছেন, আগে ওখানে গেলে আপনাদের হাত বেঁধে দেওয়া হতো । আমি আপনাদের স্যালুট জানাই যে আবার আপনারা আইন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন ।’ তিনি বলেন, ‘সেখানেও পুলিশকে মারা হয়েছে পুলিশের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে ।’ এরপর অভিষেক ব্যানার্জির উদ্দেশ্যে ঋজু দত্ত বলেন,’কত বড় মস্তান ? কত বড় মাতব্বর উনি ? আদালতে হিসাব দেওয়া হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের নাকি ১৩০০ কোটি টাকা একাউন্টে আছে । আপনি ১৩ কোটি টাকা খরচা করেছেন তৃণমূল কর্মীদের জেল থেকে বার করার জন্য? আজ গোটা বাংলা জুড়ে ১২ হাজার তৃণমূল কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। কি করেছেন এই স্বঘোষিত যুবরাজ ? চ্যাটার্ড মাফিয়া !’
তিনি বলেন,’আমার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় খুব ভালো বলেন । তিনি বলেন এই বাংলায় অর্গানাইজড লুট হয়েছে । গোটা বাংলাকে বিক্রি করে দিয়েছে একটা বেসরকারি সংস্থাকে এনে । প্রতিটা টিকিট বিক্রি করেছে । কর্মীদেরকে উহ্য রেখে, কর্মীদেরকে সরিয়ে রেখে, যারা তোলাবাজি করতে পেরেছে তাদেরকে নেতা বানিয়েছে । আজকে সেই জন্য তাদের এই পরিণতি ।’
ঋজু আরও বলেছেন,’আমাদের বলা হচ্ছে, আমরা নাকি বিজেপির বি টিম । আমরা একমাত্র যারা বিজেপির বিরোধিতা করছি । আমরা একমাত্র যারা বিজেপির চোখে চোখ রেখে লড়াই করব । এই মঞ্চ থেকে আমরা বিজেপিকে বলতে চাই, আপনারা ভালো কাজ করুন ভালোভাবে কথা হবে। যদি আপনারা অন্যায় করেন তাহলে এই তৃণমূল কংগ্রেস চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে যে আপনারা ভুল করছেন । মুখ্যমন্ত্রী ইতিবাচক কাজ করার চেষ্টা করছেন, তাকে সাধুবাদ জানাই । কিন্তু তারই দলের অনেক লোক এখন গুনতে ব্যস্ত । একটু গোনা কমান মানুষের কাজ করুন । মানুষকে হালকায় নেবেন না । মমতা ব্যানার্জি ও ভেবেছিলেন ২১৫ টার পর ২৪০ হবে । কিন্তু মানুষের দরবারে ৮০ তে পরিণত হয়েছে । আপনাদের নেতাদেরও বলুন সংযত হতে । ওদেরও কিন্তু নিচে নামা শুরু হয়ে গেছে ।’ প্রতিটি জেলায়-জেলায়, ওয়ার্ডে-ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মারধর ঘর ছাড়া এবং ভুয়ো কেস দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন ।।
