এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,১১ সেপ্টেম্বর : সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে রাজ্যজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ অনুসন্ধান অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । আর তাঁর এই নির্দেশের পরেই মুর্শিদাবাদ জেলায় পরপর দুটি বাল্যবিবাহ রুখে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন । পুলিশ প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী । আজ নিজের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার মুহুর্তের ভিডিও শেয়ার করে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন : “পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি । ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে দুটি বাল্যবিবাহ সফলভাবে প্রতিরোধ করার জন্য আমি মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ থানা এবং সিডিপিও (CDPO)-র দ্রুত ও তৎপর পদক্ষেপের প্রশংসা করছি। প্রথম ঘটনাটিতে, ৯ সেপ্টেম্বর গাজিনগরের এক ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে একটি বেআইনি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হওয়ার আগেই উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে; কাজী-সহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মেয়েটির বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন মেনে, কাউন্সেলিং বা পরামর্শের জন্য তাকে নিরাপদে শিশু কল্যাণ কমিটির (CWC) সামনে হাজির করা হয়।”
তিনি আরও লিখেছেন,”আমাদের নিরন্তর সতর্কতারই প্রমাণস্বরূপ, ১০ই সেপ্টেম্বর পুলিশ বাহিনী আরও একটি সম্ভাব্য বাল্যবিবাহ দ্রুততার সাথে রুখে দিয়েছে। এর মাধ্যমে এক নাবালিকা কন্যার সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাকে শিশু কল্যাণ কমিটির (CWC) তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। আমাদের কন্যাদের সুরক্ষা প্রদান, তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা এবং এ দেশ থেকে বাল্যবিবাহের প্রথা সম্পূর্ণ নির্মূল করার বিষয়ে আমাদের সরকার অবিচল। আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা সম্মিলিতভাবে আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করব।”
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে রাজ্যজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ অনুসন্ধান অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে বা জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পকসো (POCSO) আইন এবং বাল্যবিবাহ নিষেধাজ্ঞা আইন, ২০০৬ প্রয়োগ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা (যেমন গ্রেফতার ও জেল) নেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, এই ধরনের অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।।

