এইদিন স্পোর্টস নিউজ,৩০ সেপ্টেম্বর : ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৪০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ জিতে নিল ভারত । আজ বুধবার আসামের গুয়াহাটির বারসাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ক্রিকেটপ্রেমীরা রানের এমন ঝড় প্রত্যক্ষ করেছেন যে ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত উত্তেজনায় ভরপুর ছিল। প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৪০৫ রানের বিশাল স্কোর গড়ে এবং ভারতের বিপক্ষে জয়ের জন্য ৪০৬ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। তবে, ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা তাদের আগ্রাসী ব্যাটিং পারফরম্যান্স দিয়ে এত বড় লক্ষ্যকে কঠিন হতে দেননি।
অধিনায়ক শুভমান গিল এবং অভিজ্ঞ ওপেনার রোহিত শর্মা শুরু থেকেই ভারতের ব্যাটিংয়ের নেতৃত্ব দেন। দুই ব্যাটসম্যানই শুরু থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে রান-রেট উঁচু রাখেন। এই দুজনের জুটি ভারতীয় ইনিংসের জন্য একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে দেয় এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা শুরু থেকেই চাপে রেখে দেন ।
ভারতীয় ইনিংসে রোহিত শর্মা আরও একবার তাঁর স্বরূপ ও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখালেন। মাত্র ৭৫ বলে ১০১ রান করে রোহিত একটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন। তাঁর এই ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৬টি ছক্কা। রোহিতের এই সেঞ্চুরি শুধু দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, এটি তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেও একটি বিশাল মাইলফলক এনে দিয়েছে। এই ইনিংস খেলার সময় রোহিত ওয়ানডে ক্রিকেটে ১২,০০০ রানের মাইলফলকও অতিক্রম করেন। এই কৃতিত্ব অর্জনকারী তিনি তৃতীয় ভারতীয় এবং বিশ্বের সপ্তম ব্যাটসম্যান। তাঁর আগে শচীন টেন্ডুলকার এবং বিরাট কোহলি ইতিমধ্যেই এই ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছিলেন। রোহিত তাঁর ২৮২তম ওয়ানডে ইনিংসে এই মাইলফলকটি অর্জন করেন।
রোহিত শর্মার শতকের পর ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল তাঁর ব্যাটিংয়ের ধার বাড়িয়ে দেন। গিল চারের পর চার মেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন এবং ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে তুলে নেন। এই ম্যাচে গিল একটি ঐতিহাসিক দ্বিশতক করে ওডিআই ক্রিকেটে তাঁর দ্বিতীয় ২০০+ ইনিংসটি খেলেন।মাত্র ৬২ বলে শত রান করে ইতিহাস গড়লেন ভারতের শুভমান গিল।
ম্যাচের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করে। দলটি ৪০৫/৭ রানের বিশাল স্কোর গড়ে তোলে, যা ওডিআই ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ৪০০+ স্কোর। এই ইনিংসের বিশেষত্ব ছিল যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩ জন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করেন। জন ক্যাম্পবেল ১০১, অধিনায়ক শাই হোপ ১০৪ এবং আমির জাঙ্গু ১১৪ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। জন ক্যাম্পবেল মাত্র ৬৮ বলে ১০১ রান করেন, অন্যদিকে শাই হোপ ৯৪ বলে ১০৪ রান করেন। এরপর আমির জাঙ্গু মাত্র ৭৭ বলে ১১৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে একটি বিশাল স্কোরে পৌঁছে দেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ইনিংসটি ওডিআই ক্রিকেটে তাদের আগের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর ৩৮৯ রানকে ছাড়িয়ে যায়।
যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতের সামনে ৪০৬ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, তখন মনে হচ্ছিল এটি ভারতীয় দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কিন্তু রোহিত শর্মা এবং শুভমান গিল শুরু থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। এই দুজনের জুটি ভারতকে প্রয়োজনীয় রান রেটের চেয়ে এগিয়ে রাখে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে। রোহিত ১০১ রানে আউট হন, কিন্তু ততক্ষণে ভারতের স্কোর একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছিল। এরপর গিল তার বিধ্বংসী ব্যাটিং চালিয়ে দ্বিশতক পূর্ণ করেন এবং ভারতীয় দলকে বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে সক্ষম করে তোলেন। গিলের এই ঐতিহাসিক ইনিংস ভারতীয় ক্রিকেটে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করেছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে একাধিক দ্বিশতক করা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় গিল এখন রোহিত শর্মার পাশে স্থান করে নিয়েছেন।
ম্যাচটিতে একদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩ জন সেঞ্চুরিয়ানের গড়া ৪০৫/৭ রানের বিশাল স্কোর এবং অন্যদিকে রোহিত শর্মার সেঞ্চুরি ও শুভমান গিলের ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরি দেখা যায়। ফলে, দ্বিতীয় ওডিআইটি পুরোপুরি ব্যাটসম্যানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং ভারত সফলভাবে একটি বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এক দুর্দান্ত জয় তুলে নেয়। আজকের জয়ের সাথে সাথেই ভারত তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ জয় নিশ্চিত করল ।।

