এইদিন ওয়েবডেস্ক,পূর্ব মেদিনীপুর,০২ অক্টোবর : পশ্চিমবঙ্গে তিন পুরুষ অর্থাৎ ৭৫ বছর বিজেপি থাকবে বলে ভবিষ্যৎবাণী করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । আগামী ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থী হাঁসিরানী রথের সমর্থনে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণচকে জনসভা করেন শুভেন্দু । সভায় তিনি বলেন,’আমি আপনাদের বলে গেলাম,পশ্চিমবঙ্গে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির বিজেপি এসেছে, তিন পুরুষ থাকবে । ২৫ বছর করে মোট ৭৫ বছর । দেখতে থাকুন ।’
২০২৬ এর বিধানসভার ভোটের ঠিক মুখেই বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়া এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী পবিত্র করকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘পবিত্রর খবর কি? কেমন আছে ?’ এরপর তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘বেচারী,আমি পাঁচবার এসেছি ওর কাছে । ওকে বুঝিয়েছি৷ বলেছি যে ভাই, গোটা রাজ্যটা ঘুরছি আমি, আমি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি তুমি যেখানে যাচ্ছ লোভে পড়ে, ওই পার্টিটাই থাকবে না৷ লোভে পড়ে সকালে বেরিয়ে বিকালে প্রার্থী । সন্ধ্যায় নন্দীগ্রাম বাজারে বড় বড় লেকচার । ওর দায় নাকি শুভেন্দু যেতে ছিল একুশে ।’ তিনি বলেন,’যত পার্টির কর্মীদেরকে তাড়ানো সাসপেন্ড করা । বয়াল ১ ও ২-এ কাউকে ঢুকতে দিলো না । কোথায় আছেন আপনি এখন ? আপনার ভাইপো কোথায় ? আই প্যাক কোথায় ?’
এই শুভেন্দু অধিকারী আরো বলেন,’বিগত নির্বাচনে আমি এই মাঠেই ভুলে গেছিলাম আপনাদের যে তৃণমূল কংগ্রেস হারবে । মিলেছে হ্যাঁ কি না ? সংখ্যা বলেছিলাম ১৭৭ প্লাস । হয়েছে ২০৮ । আমি একটা ছেড়েছি তাই হয়েছে ২০৭ ।’ তিনি বলেন,’হলদিয়ায় সার্টিফিকেট নেয়ার সময় বলেছিলাম, আর যে পার্টি থাকুক পিসি ভাইপোর পার্টির নাম আর নিশান থাকবে না । নাম আছে ? নিশান আছে? ধ্বংস হয়ে গেছে । ২৮ জন সাংসদ-এর মধ্যে কুড়িজন নেই। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন নেই । পার্টিটাই নেই ।’
মমতা ব্যানার্জিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যে সিপিএমের সঙ্গে লড়াই করে তৃণমূল হয়েছিল, এখন সেই সিপিএমের নেতা এম এ বেবির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে৷ যে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল করেছিল, তিনি আজকে বলছেন কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী মেনে নিতে, আমার আপত্তি নেই । আপনারা ইভিএমে চেষ্টা করলেও ওই ছিন্নমূল জোড়া ফুলকে আর খুঁজে পাবেন না । নাই, নাম নিশান মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে ।’
সেইসাথে তোমাদের গ্রাম ছেড়ে ভবানীপুর ধরে রাখার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী । তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আপনারা হয়তো অভিমান করতে পারেন যে আমি কেন নন্দীগ্রাম ছেড়ে দিলাম৷ কারণ আমি ভবানীপুর ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে মমতা ব্যানার্জি ফের সেখানে দাঁড়াত ।’ সেই সাথে তিনি নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জির সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থীকে নোটার নিচে নামিয়ে আনার আহ্বান জানান ।।

