এইদিন ওয়েবডেস্ক,মধ্যপ্রদেশ,০১ জুন : ঈদে পশু কোরবানির ঘটনায় এক মুসলিম যুবক এতটাই মর্মাহত হয়েছিলেন যে তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে সনাতন ধর্ম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । মধ্যপ্রদেশের খাণ্ডোয়া জেলার মহাদেবগড় মন্দিরে বিলাল নামের এক যুবক সনাতন ধর্ম গ্রহণ করে বিশাল নাম রেখেছেন । তিনি মাথা মুণ্ডন করেন, স্নান করেন এবং মহাদেবের পূজা করার পর একটি যজ্ঞ সম্পন্ন করেন। তিনি মাথায় পবিত্র রামচরিতমানস রেখে নিয়মিত পাঠ করারও প্রতিজ্ঞা করেন।
পার্শ্ববর্তী হারদা জেলার খিরকিয়ায় বাড়ি বিলালের । ছোট থেকেই সনাতনী রাজেশ সারং-এর কাছে কাজ করতেন । আর সেই সময় থেকেই রাজেশের পরিবারের সদস্যে হিন্দু রীতিনীতি ও ঐতিহ্য দ্বারাও প্রভাবিত হন বিলাল । এবারের বকরা ঈদে যখন বড় আকারে অবলাপশু কোরবানি করা হচ্ছিল, তখন তাদের আর্তনাদ তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছিল। সেদিন তিনি গভীরভাবে বিচলিত হন এবং ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে সনাতন ধর্ম গ্রহণ করার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেন। তিনি ‘সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ’ এই নীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন, যা সকল জীবের প্রতি করুণার উপর জোর দেয়। তিনি রাজেশ সারংকে তাঁর সঙ্গে খাণ্ডোয়ায় মহাদেবগড়ে যেতে অনুরোধ করেন, যেখানে তিনি শুনেছিলেন যে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
যুবকটি বলেছেন, “আমার আসল নাম ছিল বিলাল, আর এখন বিশাল। আমি সনাতন ধর্মকে খুব ভালোবাসি। আমাকে এতে যোগ দিতেই হতো। আমি শুরু থেকেই এর অনুসারী। বকরা ঈদে আমি এটা সহ্য করতে পারছিলাম না। নিরীহ পশুদের কথা ভেবে আমি বাবাকে আমাকে নিয়ে যেতে বলি, তাই তিনি আজ আমাকে নিয়ে এসেছেন। আমি খিরকিয়ার বাসিন্দা, এবং সনাতন ধর্মের প্রতি আমার বরাবরই অনুরাগ ছিল।”
খাণ্ডওয়ার মহাদেবগড় মন্দিরে ইতোমধ্যেই অসংখ্য ‘ঘর ওয়াপসি’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এখানে বহু মুসলিম যুবক-যুবতী সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এই ধারাবাহিকতায়, বিলাল গতকাল বিশাল নাম নিয়ে ‘ঘর ওয়াপসি’ করেছেন । প্রথমে তার উপনয়ন অনুষ্ঠান করা হয়, যেখানে তার মাথা মুণ্ডন করা হয় এবং তারপর পবিত্র জল দিয়ে তাকে শুদ্ধ করা হয়।
মহাদেবগড় মন্দিরের পৃষ্ঠপোষক অশোক পালিওয়াল বলেন, বিশালকে গঙ্গার জল, গরুর দুধ, পঞ্চামৃত, গোমূত্র, গোবর, তুলসী পাতা, ফল, ধাতু, পঞ্চগব্য এবং কোষ দিয়ে দশটি স্নান করিয়ে শুদ্ধ করা হয়েছিল। এরপর তিনি একটি যথাযথ যজ্ঞ সম্পন্ন করেন এবং মহাদেবের কাছে প্রার্থনা নিবেদন করেন। তারপর মহাদেবগড় মন্দিরের পক্ষ থেকে বিশালকে রামচরিত মানস প্রদান করা হয়, যা তিনি তাঁর মাথায় স্থাপন করেন এবং নিয়মিত পাঠ করার প্রতিজ্ঞা করেন। এই উপলক্ষে পালিওয়াল জানান যে, এই পবিত্র পুরুষোত্তম মাসে ছেলেটি তার নতুন আধ্যাত্মিক যাত্রা শুরু করেছে। মহাদেবগড় পরিবার বিশালকে সনাতন ধর্মের সর্বোচ্চ গ্রন্থ পবিত্র রামচরিতমানস প্রদান করেন। বিশাল অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে সেটি তার মাথায় স্থাপন করে এবং এখন থেকে নিয়মিত রামচরিতমানস পাঠ করে সনাতন ধর্মের পথে অগ্রসর হওয়ার সংকল্প করেছেন ।।
★ আজ তক হিন্দির প্রতিবেদনের অনুবাদ ।
