এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৩ এপ্রিল : ভোটদানে তামিলনাড়ুকেও ছাপিয়ে গেল বাংলা । ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (WB Election 2026) প্রথম দফায় বিকেল ৫টা বাজতেই সব রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে বঙ্গবাসী । নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী,বিকেল ৫টা পর্যন্ত তামিলনাড়ুতে পড়েছে ৮২.২৪% ভোট । গত বিধানসভা নির্বাচনে ৭৩.৬৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল । যেখানে পশ্চিমবঙ্গে ভোটদানের হার ৮৯.৯৩% । পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের পরিবর্তনের সেই ঐতিহাসিক ৮৪.৩৩ শতাংশ ভোটদানের রেকর্ডকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে । দেশের সমস্ত রাজ্য এমনকি পুদুচেরি ও অসমকেও হার মানাল পশ্চিমবঙ্গ । সঙ্গত কারনেই প্রশ্ন উঠছে যে এই বিপুল ভোটদান পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত ? বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন,’এস আই আর এর নামে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ৷’ অন্যদিকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের কথায়, ‘প্রথম দফাতেই টিএমসি-র দুর্নীতি ও গুন্ডামির রাজত্বের অবসান ঘটল । আগামীকাল নতুন সুর্যদয় হবে ।’
বিকাল ৫টা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ৮৯.৯৩% ভোটার
বিকাল ৫টা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের জেলাভিত্তিক ভোটদানের হার :
দক্ষিণ দিনাজপুর ৯৩.১২% (সর্বোচ্চ),কোচবিহার ৯২,০৭%,বীরভূম ৯১.৫৫%,মুর্শিদাবাদ ৯১.৩৬ %,জলপাইগুড়ি ৯১.২০%,পশ্চিম মেদিনীপুর ৯০,৭০%,ঝাড়গ্রাম ৯০.৫৩ %, বাঁকুড়া ৮৯.৯১%,উত্তর দিনাজপুর ৮৯.৭৪%,মালদা ৮৯.৫৬%, আলিপুরদুয়ার ৮৮,৭৪ %,পূর্ব মেদিনীপুর ৮৮.৫৫%,পুরুলিয়া ৮৭.৩৫%,পশ্চিম বর্ধমান ৮৬.৮৯%,দার্জিলিং ৮৬.৪৯ % এবং কালিম্পং ৮১.৯৮% (সর্বনিম্ন) । সবচেয়ে সকাল থেকেই বুথগুলোর সামনে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছিল। বেশি ভোট পড়ার রেকর্ড গড়েছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ (৯৫.৩৪%) ও ভগবানগোলা (৯৫.৩১%)। এই সামসেরগঞ্জেই নৃশংসভাবে খুন করা হয় পিতা হরগোবিন্দ দাস ও পুত্র চন্দন দাসকে ।
২০২৬ এর পশ্চিমবঙ্গের ভোটদানের হার অসমের ৮৫.৩৮% বা পুদুচেরির ৮৯.৯৩ শতাংশ ভোটদানের রেকর্ডকে টপকে গেছে । ভোট শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগেই বোঝা গিয়েছিল যে ২০২১ বা ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের হারকে অনেক পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে এবারের বিধানসভা। সকাল থেকেই বুথগুলোর সামনে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছিল। দুপুর ৩ টেতে রেকর্ড ৭০% ভোট পড়ে । মাত্র ২ ঘন্টা পরে বিকেল ৫ টায় সেটা গড়ায় ৯০% এ । বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটেও যদি এই হার বজায় থাকে, তবে পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় স্তরে এক অনন্য নজির গড়বে। বিপুল ভোটদান সাধারণত প্রতিষ্ঠান বিরোধী হিসাবেই মনে করা হয় । যেটা ২০১১ সালে দেখা গিয়েছিল । সেই বছর সিপিএমকে কার্যত নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল । এবারের ভোট কি পরিবর্তনের পরিবর্তন-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে? বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খান অন্তত সেটাই মনে করছেন । তিনি বলেছেন,’ইতিমধ্যেই আমরা ১২০ টি আসনে জিতে গেছি ।’।
