অষ্টবক্র গীতার একাদশ অধ্যায়ে (একাদশং প্রকরণম্) ঋষি অষ্টবক্র মিথিলার রাজা জনককে আত্মার স্বরূপ, সত্ত্বগুণের শ্রেষ্ঠত্ব এবং দেহ-মন থেকে নিরাসক্তি বা অদ্বৈত জ্ঞানের চরম শিক্ষা প্রদান করেছেন। এই অধ্যায়ে জাগতিক সবকিছুর অনিত্যতা এবং ব্রহ্মজ্ঞানীর স্থির মানসিক অবস্থার বর্ণনা রয়েছে ।
অষ্টবক্র উবাচ ॥
ভাবাভাববিকারশ্চ স্বভাবাদিতি নিশ্চয়ী ।
নির্বিকারো গতক্লেশঃ সুখেনৈবোপশাম্যতি ॥১১-১॥
ঈশ্বরঃ সর্বনির্মাতা নেহান্য ইতি নিশ্চয়ী ।
অংতর্গলিতসর্বাশঃ শান্তঃ ক্বাপি ন সজ্জতে ॥১১-২॥
আপদঃ সংপদঃ কালে দৈবাদেবেতি নিশ্চয়ী ।
তৃপ্তঃ স্বস্থেংদ্রিয়ো নিত্য়ং ন বাংছতি ন শোচতি ॥১১-৩॥
সুখদুঃখে জন্মমৃত্যূ দৈবাদেবেতি নিশ্চয়ী ।
সাধ্যাদর্শী নিরায়াসঃ কুর্বন্নপি ন লিপ্যতে ॥১১-৪॥
চিন্তয়া জায়তে দুঃখং নান্যথেহেতি নিশ্চয়ী ।
তয়া হীনঃ সুখী শাংতঃ সর্বত্র গলিতস্পৃহঃ ॥১১-৫॥
নাহং দেহো ন মে দেহো বোধোঽহমিতি নিশ্চয়ী ।
কৈবল্যমিব সংপ্রাপ্তো ন স্মরত্যকৃতং কৃতম্ ॥১১-৬॥
আব্রহ্মস্তংবপর্য়ংতমহমেবেতি নিশ্চয়ী ।
নির্বিকল্পঃ শুচিঃ শান্তঃ প্রাপ্তাপ্রাপ্তবিনির্বৃতঃ ॥১১-৭॥
নানাশ্চর্যমিদং বিশ্বং ন কিংচিদিতি নিশ্চয়ী ।
নির্বাসনঃ স্ফূর্তিমাত্রো ন কিংচিদিব শাম্যতি ॥১১-৮॥
একাদশ অধ্যায়ের প্রধান শিক্ষা:
আত্মাই একমাত্র সত্য: জ্ঞানী উপলব্ধি করেন যে তিনি শুদ্ধ চৈতন্যস্বরূপ, এই জগৎ বা দেহ পৃথক কিছু নয় ।
বন্ধন ও মুক্তি: আত্মার প্রকৃত স্বরূপ জানলে বন্ধন (সংসার) ও মুক্তির ভাবনা দূর হয়ে যায়।
অদ্বৈতবাদ: “সবই আমি” – এই জ্ঞান যখন দৃঢ় হয়, তখন আমির-তুমি বা বিচার-অবিচার থাকে না, কেবল আনন্দ থাকে৷
নিরাসক্তি: দেহ এবং সংসারের অনিত্যতা জেনে সব ধরণের কামনা-বাসনা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে ।অষ্টবক্র গীতার এই অধ্যায়টি অদ্বৈত বেদান্তের সর্বোচ্চ উপলব্ধির কথা বলে, যেখানে জীব ও ব্রহ্মের অভেদত্ব প্রমাণিত হয় ।

