এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০২ অক্টোবর : দুর্গাপূজা ঘনিয়ে আসতেই বাংলাদেশে প্রতিমায় ‘জিহাদি হামলা’ শুরু হয়ে গেছে । দেশটির বিভিন্ন জেলা থেক্র একের পর এক দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরের খবর সামনে আসছে । এবারে বাংলাদেশের মির্জাপুরে একটি দুর্গামন্দিরে সাতটি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে জিহাদিরা । গত বুধবার রাতে জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় আর্য সমিতির দুর্গামন্দিরে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় শত বছরের পুরোনো এই পূজামণ্ডপে প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রায় এক সপ্তাহ আগে প্রতিমাগুলোতে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ শেষ হয়। এরপর মন্দিরটি ঢেকে রাখা হয়েছিল।বৃহস্পতিবার সকালে মণ্ডপ পরিষ্কার করতে গিয়ে স্থানীয়রা দেখতে পান, দুর্গা প্রতিমার মাথা, গণেশ, অসুরসহ সাতটি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা পূজামণ্ডপ এলাকায় অশালীন ছবিও এঁকে রেখে গেছে। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ যে,এলাকার মুসলিমরাই এই হামলা চালিয়েছে । তবে পুলিশ এখনো সুনির্দিষ্ট করে তাদের চিহ্নিত করতে পারেনি । ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মহম্মদ শামসুল আলম সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম, সহকারী পুলিশ সুপার আদনান মুস্তাফিজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদ রেজা, মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন।
জামুর্কী আর্য সমিতির সভাপতি প্রকাশ বাকালি বলেন, দুর্গাপূজার জন্য নির্মিত সাতটি প্রতিমা রাতের আঁধারে ভাঙচুর করা হয় । প্রায় শত বছর ধরে এই মন্দিরে পূজা করে আসছেন তারা। বিগত বছরগুলোতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের কাছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে তারা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মির্জাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি বিকাশ গোস্বামী বলেন, প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা পূজা উদযাপনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন।
সহকারী পুলিশ সুপার আদনান মুস্তাফিজ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, ওই পূজামণ্ডপ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থপনসহ নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া এবং বরাদ্দ হয়েছে।।

