প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৬ মে : বিধানসভা ভোটের মুখে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করা নেতাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তারর হলেন আরো এক তৃণমূল নেতা।ধৃতের নাম শেখ আজাদ রহমান। তিনি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের চকদিঘী অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি এবং চকদিঘী এলাকারই বাসিন্দা। অস্ত্র আইন সহ জামিন অযোগ্য একাধীক অপরাধের ধারার মামলা রুজু করে পুলিশ ধৃত আজাদ রহমানকে শুক্রবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ ধৃত আজাদ রহমানকে পাঁচ দিন পুলিশ হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়। বিচারক তাকে তিন দিন পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
একই অভিযোগে জামালপুর থানার পুলিশ দু’দিন আগে জামালপুরের বেরুগ্রাম অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি শেখ সাহাবুদ্দিন ওরফে দানিকে গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেপাজতে নিয়েছে। বাদ যাননি তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের জামালপুর ব্লকের সভাপতি তাবারক আলি মণ্ডল। তিনিও এখন পুলিশের হেপাজতে দিন কাটাচ্ছেন । রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে জামালপুর বিধানসভার ডাকাবুকো তৃণমূল নেতারা একের পর এক গ্রেপ্তার হওয়ায় তুমুল আলোড়ন পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,আক্রান্ত বিজেপি নেতার নাম গৌরসুন্দর মণ্ডল। পুলিশের কাছে গৌরবাবু জানিয়েছে ,গত ১১ মে দুপুর সাড়ে ১২ টা নাগাদ তিনি মোটর বাইকে চেপে বর্ধমান থেকে আঝাপুর হয়ে জামালপুরে ফিরছিলেন। পথে সারাংপুর এলাকার ফাঁকা রাস্তায় শেখ আজাদ রহমান, তাবারক আলি মণ্ডল,শেখ সাহাবুদ্দিন সহ আরো কয়েকজন তৃণমূল নেতা মিলে দল বল নিয়ে তাঁর পথ আটকায়। তারা লাঠি ,রড নিয়ে তাঁকে এলোপাথারি মারধর শুরু করলে যন্ত্রনায় কাতর হয়ে তিনি পথে লুটিয়ে পড়েন।তখনই তাঁকে গুলি করার জন্য শেখ সাহাবুদ্দিন ওরফে দানি বন্দুক তাক করলে তিনি চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন।সেই চিৎকার শুনে পথচলতি চহতে মানুষজন তাঁর দিকে ছুটে আসে। ওই সময় শেখ সাহাবুদ্দিন তার হাতে থাকা বন্দুক দিয়ে তাাঁর মাথায় আঘাত করে দলবল নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই দিনই এই গোটা ঘটনা সবিস্তার উল্লেখ করে জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বলে গৌরসুন্দর মণ্ডল জানিয়েছেন।
গৌর মণ্ডলের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে জোরদার তদন্তে নামে। নানা ভাবে খোঁজখবর চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে শেখ তাবারক আলি মণ্ডল , শেখ সাহাবুদ্দিন ও তার গাড়ির চালক দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে আত্মগোপন করে রয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে সেখানে হানা দিয়ে পুলিশ এই তিনজনকে পাকড়াও করে। তাদের জেরা করে পুলিশ শেখ আজাদ রহমানের খোঁজ পায়। বৃহস্পতিবার পুলিশ আজাদ রহমানকেও গ্রেপ্তার করে । গৌরসুন্দর মণ্ডলকে আক্রমণের ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনার জড়িত বাকি অভিযুক্তদের নাগাল পেতে তিন ধৃতকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ । এরকম ডাকাবুকো তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হওয়ায় বিজেপি নেতা গৌরসুন্দর মণ্ডল স্বস্তি প্রকাশ করেন । তবে তৃণমূলের জামালপুরে নেতারা এ নিয়ে কেউ কোন মন্তব্য করতে না চেয়ে পাশ কাটান।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানান, শুধু জামালপুরের শেখ আজাদ রহমান’ই নয়। ভয় দেখানো,অশান্তি সৃষ্টি সহ অপরাধমূলক নানা কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে জেলার খণ্ডঘোষ থানা শেখ হাবিবুর রহমান এবং আলী হোসেন মণ্ডলকে,বর্ধমান থানা উপেন্দ্র শাহ,শেখ সিরাজ এবং খন্দেকর ফজলুর রহমান ওরফে সবুজ কে গ্রেপ্তার করেছে। অপরাধ দমনে পুলিশ ধারাবাহিক ভাবে ধরপাকড় অভিযান চালিয়ে যাবে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।।

