এইদিন ওয়েবডেস্ক,আসানসোল,১৬ মে : শব্দ দূষণ রোধ করতে ধর্মস্থলে লাগানো মাইকের চোঙ থেকে নির্গত শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার উপর জোর দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার । আর মানুষের সচেতনতার জন্য সেই প্রচার করার অপরাধে আসানসোলের জাহাঙ্গির মহলা পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালালো উন্মত্ত জনতা । পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইঁটপাটকেল ছোড়ার পাশাপাশি গোটা পুলিশ ফাঁড়ি তছনছ করে দেওয়া হয় ।শুধু পুলিশ ফাঁড়ি নয়। ফাঁড়ির আশপাশে থাকা কয়েকটি কয়েকটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ । ইট-পাটকেলের আঘাতে কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর । তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে ৷
হামলার পর আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসি পিভি সতীশের নেতৃত্বে এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে । পরে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসে গিয়েছে ৷ নতুন করে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার কোনও আশঙ্কা নেই ৷ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে যারা হামলা চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করা হবে ৷”
জানা গেছে,শুক্রবার রেলপাড় সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় মন্দির ও মসজিদে লাউডস্পিকারের শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখার বার্তা দিয়ে প্রচার করা হয় জাহাঙ্গির মহলা পুলিশ ফাঁড়ির তরফে । সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাতে হঠাৎই একদল উন্মত্ত জনতা আসানসোল উত্তর থানার জাহাঙ্গীর মহল্লা ফাঁড়ির উপরে চড়াও হয়। প্রথমে তারা ইঁট বৃষ্টি শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন কয়েকশো লোক মিলে ইঁট ছুঁড়তে শুরু করে। সংখ্যায় কম পুলিশকর্মীরা প্রাণভয়ে ফাঁড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতেই উন্মত্ত জনতা ফাঁড়ির ভেতর ঢুকে যথেচ্ছভাবে ভাঙচুর চালায়। চেয়ার-টেবিল থেকে শুরু করে ফাঁড়ির ভিতর যা যা ছিল সব ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়। বাদ যায়নি কাঁচের দরজা থেকে শুরু করে আসবাব, টিভি, কম্পিউটার, সিসিটিভি ক্যামেরাও ৷ ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহতও হয়েছেন।
উপ-কমিশনার ধ্রুব দাস জানান, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিতর্কের জেরে আউটপোস্টে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর নেই। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি ।
এদিকে এই ঘটনা সংবেদনশীল এলাকায় বিজেপি- নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।।
