এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৮ জুন : রবিবার মধ্যরাতে কলকাতার যাবদপুর স্টেশনে চললো বুলডোজার অভিযান । আরপিএফ, কলকাতা পুলিশ, রেল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে জেসিবি দিয়ে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হল । বুলডোজার অভিযান আটকাতে সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা সুজন চক্রবর্তী ও এসএফআই সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রচুর কর্মীসমর্থক ভিড় জমিয়েছিল । তাদের দাবি হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা যাবে না। কিন্তু পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় ৷ সুজন চক্রবর্তীর উপরেও লাঠিচার্জ হয়েছে বলে খবর। আটক করা হয়েছে সৃজন ভট্টাচার্যসহ সিপিএমের একাধিক ক্যাডারকে ।
রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তপ্ত ছিল যাদবপুরের ২১২ বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকা। সেখানে আচমকা হকার উচ্ছেদের আশঙ্কায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একাধিক বুলডোজ়ার মজুত রাখা দেখে জমায়েত করে বামপন্থী ও কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা । ছিলেন হকাররাও । হাতে আম্বেদকর, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, প্রীতিলতা, কল্পনা দত্তদের ছবি নিয়ে তারা হুঁশিয়ারি দেয় যে কোনও ক্ষতি হলে, ভাঙচুর হলে তাঁদের উপর দিয়েই যা করার করতে হবে । পাশাপাশি চলে ‘বুলডোজার হটাও’ স্লোগান। সন্ধ্যা থেকেই ঘটনাস্থলে ছিলেন সিপিএমের সৃজন, ঊষসী চক্রবর্তী, কংগ্রেস নেতা সৌরভ প্রসাদ। কংগ্রেস ও বাম সংগঠনগুলি একজোটে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। উচ্ছেদ অভিযান আটকাতে বুলডোজ়ারের সামনেই শুয়ে পড়েন এক জন। বেশ কয়েক জন বুলডোজ়ারের উপরে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদও করেন।
সেই জমায়েত ছত্রভঙ্গ করেই শুরু হয় বুলডোজার অভিযান । ঘটনাস্থলে ছিল কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। একের পর এক দোকান ভাঙা হয় বুলডোজ়ার দিয়ে। লাঠিচার্জ করার অভিযোগও ওঠে। লাঠিচার্জের ঘটনায় আহত হয়েছেন একাধিক বিক্ষোভকারী। তাঁদের বেশ কয়েকজনকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ।
সিপিএম নেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন,’ Jadavpur station 2026 Kpc থেকে এই বাড়ি ফিরলাম । অনেকে এখনও কেপিসি তে । জয়রাজ সহ বাকি আহত দের চিকিৎসা চলছে । সৃজন সহ অনেকে গ্রেপ্তার । বিদেশের মতো চকচকে রাস্তা যারা চাইছেন তারা আসা করি বিদেশের মতোই মনোবাধিকার , মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা , শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও দাবি জানাবেন । হকার দের সরকার সরাতেই পারেন কিন্তু তাদের বিকল্প জীবিকা বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করে – দাবি এটুকুই ছিলো !’
অন্যদিকে কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিজেপি বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন,’নির্বাচনের সময় আমি কথা দিয়েছিলাম টালা ঝিলপার্ক এলাকায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের অবৈধভাবে গড়ে ওঠা জবরদখল মুক্ত করার। ফলাফল ঘোষণার মাত্র এক মাসের মধ্যেই সেই কথা রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করি এবং আজ প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতায় সেই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহযোগিতা করার জন্য প্রশাসন, এবং এলাকার সচেতন বাসিন্দাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।কাশীপুর বেলগাছিয়ার এলাকাবাসীর কাছে আমার আবেদন, কোনওভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দেবেন না। এরা এলাকার নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। আসুন, আমরা সকলে মিলে আমাদের এলাকা নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও জবরদখলমুক্ত রাখি ।’।
