এইদিন বিনোদন ডেস্ক,২৭ এপ্রিল : বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে লন্ডন প্রবাসী এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের কাছ থেকে ৯.৩৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল কন্নড় অভিনেত্রী ও বিগ বস তেলেগু প্রতিযোগী অনুশা রেড্ডির(Anusha Reddy) বিরুদ্ধে । জানা গেছে যে লন্ডনে কর্মরত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ওয়াই.ভি. ধর্মেন্দ্র(Y.V. Dharmendra) ২০১৮ সালে ভারতে এসে অভিনেত্রী অনুশা রেড্ডির সঙ্গে পরিচিত হন। ধর্মেন্দ্র পূর্বে বিবাহিত ছিলেন । কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে । অভিযোগ উঠেছে যে, অনুশা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্মেন্দ্রের বিশ্বাস অর্জন করেন এবং এরপর তার কাছ থেকে কয়েক দফায় ৯.৩৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নেন। ধর্মেন্দ্রের বাবা সত্যনারায়ণ (Satyanarayana), অনুশার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে হায়দ্রাবাদের সিসিএস থানায় (CCS Police Station in Hyderabad) একটি মামলা দায়ের করেছেন। সেন্ট্রাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ পুলিশ প্রতারণার দায়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩১৮ ধারায় ওই অভিনেত্রী এবং তার পরিবারের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করেছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রতারিত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের সাথে ওই অভিনেত্রীর পরিচয় হয় ২০১৮ সালে হায়দ্রাবাদে এক বন্ধুর মাধ্যমে। একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি হায়দ্রাবাদে এলে তখন পরিচয় হয়। সে সময় অভিনেত্রী দাবি করেছিলেন যে তিনি আমেরিকায় পড়াশোনা করছেন। তাদের সাক্ষাতের দুই মাসের মধ্যে তারা বন্ধু হয়ে ওঠেন এবং তাদের মধ্যে গভীর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। অবশেষে, অভিনেত্রী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। যখন তিনি তাকে জানান যে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে, তখন অভিনেত্রী তাকে আশ্বস্ত করেন যে এতে তার কোনো সমস্যা নেই।
এরপর সে তার নানা সমস্যার কথা বলে ওই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের কাছে টাকা চাইতে শুরু করে। প্রথমে সে বলে যে তার এইচ-ওয়ানবি ভিসায় কিছু সমস্যা ছিল, তারপর বলে যে সে আমেরিকায় পড়াশোনার জন্য ঋণ নিয়েছিল। সে আরও বলে যে তার বাবা তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং সে সিনেমায় ক্যারিয়ার গড়তে চায়, আর এখন সে প্রতারিত হওয়া সেই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ফের আর্থিক সাহায্য চাইছেন ।
অভিযোগকারী প্রযুক্তিবিদের মতে, তিনি শুধু ওই অভিনেত্রীর সমস্ত ইচ্ছা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য অর্থায়নই করেননি, বরং সময়ের সাথে সাথে একটি ফ্ল্যাট, সোনা, একটি গাড়ি কেনাসহ বিভিন্ন খরচও বহন করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে শুধু ওই অভিনেত্রীই নন, তার পরিবারের সদস্যরাও তার কাছ থেকে টাকা পেয়েছেন। ওই প্রযুক্তিবিদ বলেন, অভিনেত্রী তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তিনি এমনটা করেছিলেন।
কিন্তু যখনই অভিনেত্রী বিয়ের প্রসঙ্গ তুলতেন, তিনি আরও সময় লাগবে বলে তা পিছিয়ে দিতেন। অবশেষে, ২০২০ সালের জুলাই মাসে, যখন ধর্মেন্দ্র দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনার জন্য জোর দেন, তখন বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন অনুশা। তার এই প্রত্যাখ্যানের কারণে হতবাক হয়ে ধর্মেন্দ্র তাকে এতদিন দেওয়া টাকা ফেরত দিতে বলেন । তখন অনুশা পালিয়ে যেতে শুরু করেন।
পরে, দুজনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা এক বহুল পরিচিত টলিউড অভিনেত্রীর পীড়াপীড়িতে অভিযুক্ত অভিনেত্রী ৭০ লক্ষ টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু তিনি তাঁর কথা রাখেননি। এরপর, ২০২০ সালের নভেম্বরে, অভিনেত্রীর পরিবার তাঁর সাথে যোগাযোগ করে এবং জানায় যে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর অভিনেত্রী হতাশায় ভুগছিলেন। তাই, তাঁরা আমার সাথে দেখা করে তাঁর সাথে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে আমাকে জোর করেন।
অভিনেত্রীর অনুরোধে ওই প্রযুক্তিবিদ তাকে আবার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৩ সালে তার বাবার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তিনি পুনরায় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে এই বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। কিন্তু কিছুদিন পর জানা যায় যে, অভিনেত্রী অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন এবং শুধুমাত্র চাঁদাবাজির জন্য তাকে ব্যবহার করছিলেন, প্রযুক্তিবিদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একথা জানিয়েছে ।।
