এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৮ নভেম্বর : ২০১৫ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে একটি জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মঞ্চে উঠে চড় মেরেছিলেন ২৫ বছর বয়সী দেবাশিস আচার্য নামে স্থানীয় এক যুবক । পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১৭ জুন তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এই মৃত্যু নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠে৷ দাবি করা হয়, অভিষেককে চড় মারার অপরাধেই তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে । কিন্তু রাজ্যে শাসন ক্ষমতার তৃণমূল থাকায় সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যায় । পালাবদলের দেবাশিস আচার্যর রহস্যমৃত্যুর ফের তদন্তের দাবি উঠছে ।
হিন্দু সংহতির রাজ্য সভাপতি শান্তনু সিনহা এই বিষয়ে একটি সুখবর দিয়েছেন । তিনি জানিয়েছেন, এবিষয়ে তারা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পুণঃতদন্তের দাবি জানানোর পর রাজ্য পুলিশ তাদের অভিযোগ শুনতে আগ্রহী হয়েছে । শান্তনু সিনহা এই বিষয়ে ফেসবুকে লিখেছেন,’দেবাশিস আচার্যকে মনে আছে ? তৃণমূল যুব নেতা অভিষেক ব্যানার্জিকে চড়া মেরে যিনি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিলেন । পরবর্তীকালে লরি চাপা পরে মারা যান বলে খবর । কিন্তু এই অ্যাক্সিডেন্ট ছিল সন্দেহজনক । পুলিশের অনেক আধিকারিকও একান্ত আলোচনায় তাঁদের সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন । আমরা HUMAN RIGHTS BEYOND FRONTIERS FOUNDATION থেকে এই মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চেয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন জানিয়েছিলাম । গতকাল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে ফোন করছিলেন, আমাদের অভিযোগ নিয়ে তাঁরা আমাদের বক্তব্য শুনতে চান । অন্ধকার থেকে আলোর পথে এই যাত্রা – HUMAN RIGHTS BEYOND FRONTIERS FOUNDATION কে ধন্যবাদ।
প্রসঙ্গত,২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি চণ্ডীপুরের একটি সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সপাটে চড় মেরেছিলেন ২৫ বছর বয়সী দেবাশিস আচার্য। ঘটনার পরই উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের মারধরে তিনি গুরুতর আহত হন।এই চড় মারার পর পুলিশ দেবাশিসকে গ্রেপ্তার করে। তবে, কিছুদিন পরেই অভিষেক ব্যানার্জীর অনুরোধে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ২০২০ সালে দেবাশিস আচার্য বিজেপিতে যোগদান করেন। ওই বছর ১৬ জুন রাতে বন্ধুদের সঙ্গে দেবাশিস তিন বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়েছিল। তারা সোনাপেটা টোল প্লাজার কাছে একটি চায়ের দোকানে বসে থাকার সময় একটি ফোন পেয়ে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। পরের দিন ভোর ৪টা নাগাদ কোলাঘাট-হলদিচাক সংলগ্ন জাতীয় সড়ক থেকে এনএইচএআই (NHAI)-এর কর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন এবং তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন দুপুর নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মাথা ও গলায় গুরুতর আঘাত ছিল। দেবাশিসকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করেছিল তা প্রথমে স্পষ্ট ছিল না। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে ‘পরিকল্পিত খুন’ বলে অভিযোগ করা হয়। বিজেপি নেতৃত্ব ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানায়। পরবর্তীতে এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্তভার সিআইডি (CID)-র হাতে যায় এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারা দেবাশিসদের বাড়িতে যান।
গত ১৪ জুন HUMAN RIGHTS BEYOND FRONTIERS FOUNDATION মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে “দেবাশীষ আচার্যের রহস্যজনক মৃত্যুর সত্য উদঘাটন” সংক্রান্ত একটা চিঠিতে আবেদন জানায় : “ব্যথিত হৃদয়ে আমরা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনাকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই।বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে চাপা দিয়ে রাখা বিভিন্ন মামলা পুনরায় চালু করার জন্য আপনার গৃহীত পদক্ষেপের আমরা প্রশংসা করি। আমরা এখন আপনার কাছে প্রার্থনা করি, আপনি যেন কথিত সড়ক দুর্ঘটনায় দেবাশিস আচার্যের অস্বাভাবিক আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনুন। এখানে উল্লেখ্য যে, এই দেবাশিস আচার্যের বিরুদ্ধে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শ্রী অভিষেক ব্যানার্জীকে চড় মারার অভিযোগ ছিল।সত্য উদঘাটন করতে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ফাইলটি খোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনাকে অনুরোধ করা হচ্ছে।” এখন দেখার বিষয় এই রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু হয় কিনা এবং শুরু হলে নতুন কিছু তথ্য বেরিয়ে আসে কিনা ।।

