বিশ্বের বামপন্থীরা সাধারণ মানুষ থেকে ক্রমশ যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে ততই তারা নীতিহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করা হয় । অভিযোগ ওঠে, তাদের একমাত্র নীতি হল বেপরোয়া মুসলিম তোষামোদ এবং অন্ধভাবে চীনকে সমর্থন । বিশেষ করে চীনের প্রতি তাদের এতটাই অনুরাগ যে,তারা মাঝেমধ্যেই নিজের দেশেরই বিরুদ্ধাচারণ করে বসে । গত পরশু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিপাবলীতে চীনের আলোকসজ্জা না কিনে ভারতীয় কেনার আহ্বান জানালে বামপন্থী দল সিপিএমের এমনই এক কদর্য রূপ সামনে আসে । শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশ্যে সিপিএমের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে লেখা হয় : “আগে তোর বাপকে গিয়ে বল,চীনের কোম্পানি না কিনতে” । কিন্তু সিপিএম নির্বোধের মত “আদানি গ্রুপ”কে চীনা কোম্পানি হিসাবে চিহ্নিত করে । যানিয়ে তাদের এখন সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে ।
বামপন্থীদের এই প্রকার ” নীতিহীনতা ও চীন প্রেম” নিয়ে দেশ বিদেশে প্রতিনিয়ত সমালোচনা ও বিশ্লেষণ হয় । বাংলাদেশের মুক্তমনা ও সমাজকর্মী শেখ ফরিদ “বামপন্থী আর ধর্মান্ধদের” এক সারিতে বসিয়েছেন । তাঁর কথায়, ‘ধর্মান্ধ আর বামান্ধের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।একটা নিম্নজাতের অন্ধ আরেকটা উন্নতজাতের মানে হাইব্রিড অন্ধ।’
তিনি বলেছেন,’এ দুগোষ্ঠীর নিজের চিন্তা করার কোন ক্ষমতা নেই। মাদ্রাসার তালেবে এলেমরা তাদের উসতাদের বয়ান অন্ধের মত বিশ্বাস করে৷ এমনকি তারা কোরান হাদিসটা খুলে দেখে না। বামেরাও তাই, তাদের পার্টি অফিস আর জালিয়াত সেলিব্রেটি বাম কি বললো তাই অন্ধের মত মানে। তারাও কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোটা খুলে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। এই দুই গোষ্ঠী গড্ডালিকা প্রবাহের মত। আমি কেবল বইয়ে পড়িনি নিজের চোখে কয়েকবার গড্ডালিকা প্রবাহ দেখেছি। আমাদের বাড়ির সামনে লোকোসেড, রেল লাইন। ভেড়া একটা কাটা পরলে সাথে সাথে ১০/২০/৩০টা কাটা পরতো। কারন, একটা যে দিক দিয়ে মাথা ঢুকাতো সবগুলো ঐদিকেই মাথা দিতো চলন্ত ট্রেনের নিচে! একবারও থেমে যাওয়া,পিছু হটার কথা ভাবতো না চোখের সামনে সকলের মৃত্যু বা ধ্বংস দেখেও!’
শেখ ফরিদ বলেছেন,’মালদ্বীপে অমুসলিমদের নেতা হওয়া তো দুরের কথা ভোটাধিকারও নেই। ইউরোপ আমেরিকায় যদি মুসলামাদেরও ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হতো। তবে সবার আগে ঢাকা দিল্লির হিন্দু বামেরা আগে মিছিল শুরু করতো মুসলমানদের আগে! তাই না?’ তিনি নিজের দেশের বামপন্থীদের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন,’কসাই খোমেনীর ইরানে মাথা না ঢাকলে পিটিয়ে এমন কি ধর্ষন করে মেরে ফেলা হয়। চিংকুবাম অরুন ধূতি+শর্মিলা বোস ও তাদের বাংলাদেশী চ্যালারা এ বিষয়ে মুখে কলুপ এটে থাকে।’
বামপন্থীদের নীতিহীনতার এই প্রকার সমালোচনার কারনে শেখ ফরিদকে হুমকির মুখেও পড়তে হয় । আর সবচেয়ে মজার বিষয় হল যে,হুমকি সবচেয়ে বেশি আসে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে ।
শেখ ফরিদ জানিয়েছেন,”ঋতঙ্কর দাস” নামে পশ্চিমবঙ্গের এক বামপন্থী তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি দিয়েছেন । তিনি ওই পোস্টের স্ক্রীন শর্ট শেয়ার করেছে৷ যাতে লেখা হয়েছে,”বাম মানেই ব্যামো” ঘোষণা করা Sheikh Farid দেশবেচুয়া দেশদ্রোহী বিজেপিকে সমর্থন করে, চেটে – ভারতের নাগরিকত্ব পেলেও বিজেপি ক্ষমতা হারানোর পরপরই কলকাতা তথা ভারতে নানান সমস্যার সম্মুখীন হবেন বলাই বাহুল্য, তাই বিজেপি থাকতে থাকতেই কলকাতা বা ভারত থেকে কবিতার বই প্রকাশ করে যেটুকু কামিয়ে নেওয়া যায় কামিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। বিজেপির টাকার অভাব নেই, ভারতের জল জঙ্গল জমি খনিজ লুট করা আম্বানি আদানীর পোষ্য দল বলে কথা! পশ্চিমবঙ্গের ছোটখাটো ইউটিউবাররাও ৫১ লক্ষ থেকে ১.৫ কোটি কামাচ্ছে বছরে বিজেপির হয়ে প্রচার করে। আর আপনি তো অনেকের কাছে জিন্দা পীর। তাই যতটা পারেন শুষে নিন।’
ঋতঙ্কর দাসের ফেসবুক প্রোফাইল অনুযায়ী তার বাড়ি দুর্গাপুরে । বর্তমানে কলকাতায় থাকেন । দুর্গাপুরে স্কুলে পড়াশোনার পর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন বলে প্রোফাইলে লিখেছেন । বিজেপি ও মোদী সরকারের কট্টর সমালোচক ওই বামপন্থীর মতে বিজেপির শাসনকালেই নাকি ভারতীয় রেল সবচেয়ে দুরাবস্থার মধ্যে রয়েছে । মোদী সরকারকে “ন্যাক্কারজনক পূঁজিবাদী মানসিকতার” বলে বর্ণনা করেছেন তিনি ।
যাই হোক,তার পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় শেখ ফরিদ লিখেছেন,’কইলকাতা থেকে আমাকে হুমকি । কইলকাতার চিংকু বাম ভাবীর পোলা হুমকি দিলো! আমাকে হুমকি দিয়েছে ঋতংকর দাস নাকি জলাতঙ্ক দাস নাকি কফকাঁশ নামের এক নাবালক চিংকু বাম৷ বামকে ব্যামো বলেছি বলে বেজায় ক্ষেপেছে।’
তিনি লিখেছেন,’পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় না থাকলে আমি নাকি কোলকতায় বাংলাদেশী হিসেবে তো দুরের কথা ভারত নাগরিকত্ব পেলেও নাকি ভারতে থাকতে পারবো না! এই চিংকু বাম ভাবীর পোলার এ হুমকিতে বুঝা গেলো, আমার কথায় লেখায় কেবল বাংলাদেশ নয় ভারতেও অনেকের ঘুম হারাম হয়ে গেছে ।’ পালটা হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এখনতো আমি ট্রেলার দেখাচ্ছি। মুভি দেখানো তো শুরুই করিনি। এতেই ঘুম হারাম! কোলকাতার কেউ কেউ বলতো আমার লেখা ও ভিডিওর কারনে নাকি কোলকাতার রাজ্য সভার নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পরেছে। কথাটা বিশ্বাস করিনি এখন কিছু বিশ্বাস করতেছি। ভাবীর পোলা আমি ঠিকই ভারতে আসবো যাবো থাকবো খাবো ঘুরব ঘুমাবো। তোমরা বামেরা জাদুঘরে চলে যাবে ।’
আসলে একদিন আগে শেখ ফরিদ একটা চড়া লিখেছিলেন :
“চিংকু বাম মানেই ব্যামো
নাই জামানত রক্ষার খ্যামও!
৫০ জনের জমায়েতে
দেখায় বিশ্বজয়ের ডেমো;
এ সকল দেশোদ্রোহীদের
জটলা দেখলে মাঝে মাঝে থু থু দিতে থেমো।”
গত ২৮ অক্টোবর ফেসবুকে একটা পোস্টে বামপন্থীদের ইসলামপ্রীতি নিয়ে শেখ ফরিদ লিখেছিলেন,’বাংলাদেশের চিংকু বামেরা কখন না জানি বলে বসে, নারায়ন তকদির আল্লাহু আকবর ছিলো ৭১ বামদের শ্লোগান। আর ভারতীয় বামদের প্রিয় শ্লোগান তো, তেরে মেরে রিসতা কেয়া লা এলাহা ইল্লালাহ্! এ বিষয়ে তো নতুন কিছু বলার নেই।
দ্র : আমাদের এক বন্ধু ছিলো নাম জয়নাল। তাকে যতবার বলা হতো নারায়ে তাকবির বল, ও বলতো নারায়ণ তকদির!’

