এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০৩ নভেম্বর : সুদের টাকা দিতে না পারায় দুই শিশুসন্তান সহ হিন্দু মহিলাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল পাওনাদার । বাংলাদেশের নেত্রকোনার মদন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আশকিপাড়া গ্রামের ঘটনা । কলি নামে ওই মহিলা তাঁর ২ নাবালক সন্তানকে নিজ বাড়ি থেকে বের করে ঘড়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় প্রতিবেশী হাফছা আক্তার ও তার দলবল। এমনকি একজন শিশুকে তার জামা পরার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি ।
পাওনাদারদের এই অমানবিক অত্যাচারের পর অসহায় পরিবারটি বর্তমানে সুবিচারের আশায় মদন থানায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং মদন থানার পুলিশের সহায়তা কামনা করছেন। ঘটনাটি ঘিরে তোলপাড় পড়ে গেছে এলাকায় ।
পাশাপাশি অন্যদিকে বাংলাদেশের চিতলমারীতে হিন্দু মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে “মালাউনের বাচ্চা” বলে গালাগালি দিয়ে ভারতে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে । ভুক্তভোগী লিটন বড়াল এখন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ।
জানা গেছে,লিটন বড়াল এর বাবা মৃত প্রতুল কুমার বড়ালের বাবা মৃত প্রতুল কুমার বড়াল ১৯৭১ সালে দেশের জন্য অস্ত্র ধরেছিলেন । দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে নিযুক্ত হন । গত ৬ই আগস্ট চিতলমারী থানার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহম্মদ মনিরুজ্জামান মনির খান, মহম্মদ তলিফ খান এবং তাদের ভাইপো সহ আরো দলবল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ।
ভুক্তভোগী লিটন বড়ালের অভিযোগ,গত ৬ই আগস্ট তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়। তাকে না পেয়ে তাদের দোতলা বাড়ি ও কাছারি ঘর ভাঙচুর করে এবং বাড়িতে রাখা শোরুমের লাখ লাখ টাকার মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের বাড়ির ও ব্যবসায়িক জিনিসপত্র সহ প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার সম্পদ লুটপাটসহ নষ্ট করে। তিনি বলেন, ‘মহম্মদ মনিরুজ্জামান আমায় বলে যে,”মালাউনের বাচ্চা তোদের এই দেশে কোন জায়গা নেই, তোদের জায়গা ইন্ডিয়ায়, এই বাংলাদেশে তোদের কোন অস্তিত্ব নেই” ।
ভুক্তভোগী লিটন বড়াল আরও অভিযোগ করেন যে, আমরা সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার হওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা সব জেনেও কোনো ন্যায়বিচার করছেন না। উল্টো আমরা আইনি পদক্ষেপ নিলে তারা অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য তৎপরত চালাচ্ছে। এমনকি আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার জন্য এবং বাড়িতে মোটা অঙ্কের চাঁদা রেখে আসার জন্য!
