এইদিন ওয়েবডেস্ক,আহমেদাবাদ,০৩ নভেম্বর : দিপাবলীর আগেই গুজরাটের আহমেদাবাদে ৬১ জন অবৈধ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হয়েছে । আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চের তথ্য অনুযায়ী,প্রায় ১০০ জন সন্দেহভাজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬১ জন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। তারা দৈনিক মজুরির কাজ, রাজমিস্ত্রির কাজ এবং কেউ কেউ স্পা ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করার জন্য অসাধু দালালদের মাধ্যমে ভুয়া আধার, প্যান ও ভোটার আইডি জোগাড় করেছিল । পুলিশের ভাষ্যমতে, আটককৃতরা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে বসবাস করছিলেন। কর্তৃপক্ষ তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
গুজরাট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হর্ষ সাংঘবের নেতৃত্বে বর্তমানে ব্যতিক্রমী “শুদ্ধি অভিযান” চলছে । যার ফলে কাতারে কাতারে অবৈধ বাংলাদেশি ধরা পড়ছে সেখানে । সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, পুলিশের দলগুলো আহমেদাবাদের বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর এলাকায় একযোগে অভিযান চালায়। পিটিআই-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা।
আহমেদাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত সকলকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।আহমেদাবাদ পুলিশ অতীতেও এ ধরনের অভিযান চালিয়েছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে, পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর পুলিশ চান্দোলা লেক এলাকা থেকে ২০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে।২০২৫ সালের অক্টোবরে, সোলা এলাকার ভাড়া বাড়িগুলো থেকে ১৭ জন বাংলাদেশি নারীকে আটক করা হয়, যেখানে তারা পরিচয় গোপন করে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যেখান দিয়ে কর্তৃপক্ষ অবৈধ অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে । ২০২৫ সালের ১২ই মার্চ রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে সীমান্ত থেকে মোট ২,৬০১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক আটক রেকর্ড করা হয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে, যখন ৩৩১ জন বাংলাদেশি নাগরিক ধরা পড়েন।।

