এইদিন ওয়েবডেস্ক,জলপাইগুড়ি,১৭ আগস্ট : আত্মীয়া কিশোরীকে ‘লাভ জিহাদ’ থেকে বাঁচাতে গিয়ে নৃশংস ভাবে খুন হতে হল জলপাইগুড়ির দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে । মৃতের নাম মহাদেব রায় । ওই কিশোরকে নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে গলা কেটে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ । এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জলপাইগুড়ি জেলার কোতোয়ালি থানার পুলিশ । পুলিশ জানিয়েছে,ধৃতের নাম রোহিত হোসেন । আটক করা হয়েছে ৩ নাবালককে । তারা তিনজনেই নিহত মহাদেবের সহপাঠী বলে জানা গেছে । পুলিশ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে । অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি করেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি । পাশাপাশি আদালতে ধৃতদের হয়ে যাতে কোনো আইনজীবী সওয়াল না করেন সেই আবেদনও জানিয়েছেন তারা ।
উল্লেখ্য,গত বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি রেলসেতু সংলগ্ন নির্জন এলাকায় এক কিশোরের গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা । তাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে অকুস্থলে যায় জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পরে নিহত কিশোরের পরিবার দেহটি সনাক্ত করেন । পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় । পাশাপাশি পুলিশ কুকুর দিয়ে অকুস্থলে তদন্ত চালানো হয় ।
জানা যায়,তদন্তে পুলিশ জানতে পারে যে,নিহত মহাদেবের সঙ্গে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল রোহিত হোসেন ও তার ৩ কিশোর সহযোগীকে । তার ভিত্তিতেই রোহিত হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । আটক করা হয় ৩ কিশোরকে । অভিযোগ, মৃত মহাদেব রায়ের পিসতুতো বোনকে ‘লাভ জিহাদ’-এ ফাঁসানোর চেষ্টা করছিল রোহিত হোসেন । কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় মহাদেব । আর সেই আক্রোশেই মহাদেবকে নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে গলাকেটে খুন করে রোহিত হোসেন ও তার ৩ কিশোর সহযোগী ।
রবিবার বিকেলে নিহত পড়ুয়ার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জেলা নেতৃত্ব । সংগঠনের জেলা সম্পাদক শুভঙ্কর দত্ত বলেন, ‘একটি হিন্দু ছেলেকে যেভাবে নৃসংশভাবে গলা কেটে খুন করা হয়েছে তা খুবই উদ্বেগজনক । লাভ জিহাদের প্রতিবাদ করার কারণেই বলি হতে হয়েছে ওই কিশোরকে । আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং নিহতের পরিবারের পাশে রয়েছি। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক এবং সর্বোচ্চ শাস্তি যাতে পায় সেজন্য পরিবারকে আমরা সব রকম আইনি সহযোগিতা করব ।’ তিনি আরও বলেছেন,’ওই মুসলিম ছেলেরা এরকম নৃসংশভাবে হত্যা করার প্রশিক্ষণ কোথায় পাচ্ছে ? আমার মনে হয় এগুলো তদন্ত করা দরকার ।’।
