রামজন্মভূমির উপর মুঘল হানাদার বাবর অস্ত্রের জোরে নিজের নামে মসজিদ নির্মান করেছিল । প্রায় পাঁচ শতাব্দী পর সেই স্থান আদালতের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয় হিন্দুরা৷ তার আগে নব্বইয়ের দশকে ভেঙে ফেলা হয় বিতর্কিত বাবরি মসজিদের কাঠামো । আর সেই দৃশ্য কংগ্রেস, বামপন্থী ও মুলায়েম সিংয়ের সমাজবাদী পার্টির নেতাদের চরম কষ্ট দিয়েছিল । ঠিক কতটা কষ্ট পেয়েছিলেন, সেটা কংগ্রেস প্যারালিমেন্টারি পার্টির চেয়ারপার্সন সোনিয়া গাঁধির কথাতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে৷
তিনি ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাটি দেখার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেছেন। তিনি জানান, টেলিভিশনে মসজিদটি ভেঙে ফেলা হতে দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোনিয়া বলেন, এই ঘটনা তাঁকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছিল যে, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখার জন্য দেশটিকে এক ‘দীর্ঘ লড়াই’-এর মুখোমুখি হতে হবে।
নিজের স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অফ লাভ’ (Belonging: A Journey of Love) প্রকাশের প্রাক্কালে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর হানা এলিস- পিটারসেনের সঙ্গে আলাপচারিতায় সোনিয়া গাঁধি সেই সময়ে উত্তর ভারতে ঘটে চলা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনগুলোর ওপর আলোকপাত করেন—যে সময়ে রাম জন্মভূমি আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হয়ে উঠছিল।
এই আন্দোলনের সমর্থক—যাদের মধ্যে বিজেপি নেতারাও ছিলেন—তাদের দ্বারা কাঠামোটি ধ্বংস করার ঘটনার কথা স্মরণ করে সোনিয়া বলেন, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু ও তাঁদের সহকর্মীদের পরিকল্পিত ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ রক্ষার লড়াইয়ে দেশটি একটি কঠিন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। তিনি এও স্বীকার করেন যে, বিজেপির উত্থান এবং তাদের “কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি”র পেছনে কোনো না কোনোভাবে কংগ্রেসেরও অবদান ছিল। তিনি সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, “আমার মনে হয়, আমরা অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত আত্মতুষ্ট। আমাদের মধ্যে এক ধরনের উদাসীন মনোভাব কাজ করছিল।”
তাঁর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি কংগ্রেস দলকে “হিন্দু-বিরোধী” বলে অভিযুক্ত করেছেন। এক্স (X)-এ করা এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “সোনিয়া গাঁধি বাবরি মসজিদের জন্য চোখের জল ফেলেন। সোনিয়া গাঁধি বাটলা হাউসের জন্যও চোখের জল ফেলেন। সোনিয়া গাঁধি প্রমাণ করে দিলেন যে, কংগ্রেস বাবর-পন্থী এবং ভগবান রাম-বিরোধী। সোনিয়া গাঁধির এই ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি বারবার ব্যর্থ হবে!”
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় কর সেবকদের দ্বারা কাঠামোটি ধ্বংস করা হয়, যা পরবর্তীতে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটায়। তিন দশকেরও বেশি সময় পর, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওই স্থানে রাম মন্দিরের উদ্বোধন করেন—যার মাধ্যমে বিজেপির দীর্ঘদিনের একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ হয় ।।

