ভারতের বামপন্থীরা রাজনৈতিকভাবে গ্রহনযোগ্যতা ক্রমশ হারাচ্ছে ! তবে মাঝে মধ্যে তাদের বিতর্কিত কিছু শ্লোগান সাড়া ফেলে দেয় । বিশেষ করে “কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি” শ্লোগানের কারনে বামপন্থীদের “দেশদ্রোহী” তকমা জোটে । তারপরেও বামপন্থীরা গানের সুরে আর তালিয়ে বাজিয়ে সড়কপথের উপর দাঁড়িয়ে এহেন বিভিন্ন শ্লোগান তুলে যায় আকছার । এবারে ঠিক বামপন্থীদের কায়দায় পশ্চিমবঙ্গের কিছু তরুনীকে হাতে তালি বাজিয়ে এবং গানের সুরে এমন কিছু শ্লোগান তুলেছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ।
এমনই একটি ভিডিও সম্প্রতি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে৷ বিজেপির ছাত্র সংগঠমের অল্পবয়সী কিছু মেয়েকে তালি বাজিয়ে শ্লোগান দিতে শোনা যাচ্ছে : “মুখে মিষ্টি দাঁতে বিষ,তার নাম কমিউনিস্ট” এবং “সবসে বড়া আতঙ্কবাদী…. মার্ক্সবাদী মার্ক্সবাদী” ।
এদিকে এই শ্লোগানের পর বিভিন্ন জন বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন । সুনন্দা আচার্য নামে একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন,’রাজনৈতিক বিতর্কের আর কী দরকার, যখন বাঙালি বোনেরা এই পর্যায়ের ব্যঙ্গ নিয়ে হাজির হয়? কমিউনিস্টরা, দয়া করে কিছু ঘুমের ওষুধের ব্যবস্থা করুন!’
শ্রবণ বিষ্ণনৈ লিখেছেন,’শক্তিশালী স্লোগান নিয়ে অগ্রভাগে রয়েছেন বাঙালি নারীরা।”মুখে মিষ্টি, দাঁতে বিষ—এটাই হলো কমিউনিস্টরা।” পিএন রাই লিখেছেন,’বাংলার নির্ভীক নারীরা কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে একটি ফ্রন্ট খুলেছেন।’
অবিনাশ কেএস (https://x.com/ AvinashKS14/status/2105697439739179314) লিখেছেন, ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ও ছাত্ররা ঢাকুরিয়ার একটি স্কুলের দেয়াল থেকে মাও সে-তুং এবং কার্ল মার্ক্সের প্রতিকৃতি অপসারণ করেছে। অনেক দেরি হয়ে গেছে, এটা প্রথম দিনেই করা উচিত ছিল। আমাদের দেশে কমিউনিস্ট এবং কমিউনিজমের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। সবকিছু নিষিদ্ধ করুন।’ তিনি ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন,’সেটার সাথে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি না জানি না৷ ভালো, অবশেষে এই নির্ভীক এবং আপসহীন বাঙালি নারীদের মধ্যে কিছুটা শুভবুদ্ধির উদয় হচ্ছে! শক্তিশালী স্লোগান দিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা। “মুখে মিষ্টি, দাঁতে বিষ, এই হলো কমিউনিস্ট।” “সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী, মার্ক্সবাদী” । আসলে তারাই সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী । কোনো গণতন্ত্রেই কমিউনিস্ট ও কমিউনিজমের কোনো স্থান নেই। এটিকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা উচিত। এর অংশ হওয়ার জন্য এর সকল অনুসারীকেও পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। তাদের মধ্যে কেউই যেন আমাদের শাসনব্যবস্থার অংশ না হয়।’ তিনি লিখেছেন,’আমাদের ব্যবস্থা থেকেই এদের সবাইকে নির্মূল করা গেলে এই দেশের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কেরলম ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলো থেকে, বা এই দেশে যেখানেই এরা এখনও রয়ে গেছে, সেখান থেকে এদের নির্মূল করা উচিত।’
প্রসঙ্গত,ভারতের বামপন্থীদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে । ত্রিপুরা আর পশ্চিমবঙ্গের কয়েক দশকের শাসনক্ষমতা চলে যাওয়ার পর এই দুই রাজ্যে বামপন্থীদের প্রত্যাবর্তনের আর কোনো আশাই দেখা যাচ্ছে না৷ অস্তিত্ব টিকে ছিল শুধুমাত্র কেরালায় । কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভার ভোটে সেটাও হাতছাড়া হয়ে গেছে । রাজনৈতিকভাবে ক্রমশ নিশ্চিহ্ন হতে বসা বামপন্থীরা এখন কিছুটা ছন্নছাড়া । চরম তোষামোদি নীতি,পাকিস্তান প্রেম এবং কিছু দেশবিরোধী মন্তব্যের জন্য মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশের মানুষ আজ বামপন্থীদের উপর চরম রুষ্ট ।
বামপন্থীদের দেশবিরোধী ও ইসলামপন্থী মতামতের কিছু নজির
পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এবং কর্মসূচিতে কথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান ও গ্রাফিতি লেখার অভিযোগ ওঠে৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ও ওপেন এয়ার থিয়েটারের আশেপাশে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির কিছু স্লোগান ও গ্রাফিতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। বিজেপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা দাবি করেন যে ওই সমস্ত ক্যাম্পাসে ‘ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে ইনশাআল্লাহ ইনশাআল্লাহ’-র মতো রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান ও লেখালেখি হচ্ছে । যদিও বামপন্থী ছাত্র ও নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান যে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে (যেমন ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান বা সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ) সংহতি জানানো কিংবা রাজনৈতিক মতপ্রকাশকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘দেশবিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গত বছর ৯ মে বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তরুনজ্যোতি তিওয়ারি এই বিষয়ে একটা পোস্টে লিখেছিলেন, দেশদ্রোহী ! চিনে রাখুন—বামপন্থী মানেই ভারত-বিরোধী শক্তি।
“Bharat tere tukde honge, Insha Allah Insha Allah”, “Hinduon ki kabar khudegi Jamia ke dharti par”,”Bharat ki barbadi tak jang rahegi jang rahegi”,”Kashmir Mange Azadi”,”Afzal hum sharminda hai, tere qatil zindabad hai”—এই ঘৃণা ও দেশবিরোধিতায় ভরা স্লোগান আজ JNU, JAMIA, যাদবপুরের মতো বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে প্রতিধ্বনিত হয়েছে।
এইসব স্লোগানের নেপথ্যে থাকা মুখগুলো সকলেই বামপন্থী, যারা জেহাদি মানসিকতা পোষণ করে, মাওবাদীদের প্রশ্রয় দেয়, আর ভারতকে ভাঙার স্বপ্ন দেখে। আজ পাকিস্তান যখন ভারতীয় জবাবের সামনে কাঁপছে, তখন এদের গলা থেকে উঠছে—”de-escalate, de-escalate!” কেন? কারণ এরা জানে—এটা নতুন ভারত। আজ ভারত সীমান্তের বাইরে যেমন পাকিস্তানকে ধ্বংস করছে, ঠিক তেমনি দেশের ভিতরে থাকা Urban Naxal, Maoist ও বামপন্থী ছদ্মবেশীদেরও নির্মমভাবে ধ্বংস করছে।’
তিনি আরও লিখেছেন,’এদের আসল আতঙ্ক এই নতুন ভারতের প্রতিশোধস্পৃহা।যে ভারত কড়া হাতে প্রতিরোধ জানায়, প্রতিহত করে।সাধারণ দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতি আহ্বান:ভারতের সেনাবাহিনী দেশের বাইরের যুদ্ধ লড়ছে,দেশের ভিতরের যুদ্ধটা আপনাদের লড়তে হবে।বামপন্থীদের সামাজিকভাবে বয়কট করুন।এদের মুখোশ খুলুন, পরিচয় তুলে ধরুন।শিক্ষা, শিল্প, মিডিয়া, এবং রাজনীতির অন্দরে লুকিয়ে থাকা দেশবিরোধীদের উচ্ছেদ করুন।বুড়ো বাম হোক বা কচি বাম—সবকটাই এক,ভারত বিরোধী, পাকিস্তানপন্থী।এদের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়ান।ভারতকে রক্ষা করতে হলে, এইসব লাল বিষ ধ্বংস করতেই হবে।’।
