এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৩ অক্টোবর : দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির রামলীলা ময়দানে ধরনায় বসেছে কংগ্রেস পরিচালিত ইন্ডি জোট । জোটের শরিক হিসেবে সামিল হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামপন্থীরাও । তাদের কথায়, এসআইআর-এর নামে কোটি কোটি বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন । কিন্তু আজ কলকাতায় সল্টলেকে দলীয় কার্যালয়ে বসে ইন্ডি জোটের অসদ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন খাড়া করে দিয়েছেন স্মৃতি ইরানি। তাঁর প্রশ্ন হল, ‘ইন্ডি জোট কেন মৃত,নকল, স্থানান্তরিত ভোটার ও অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে চাইছে ?’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে স্মৃতি ইরানি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে একযোগে গোটা বিরোধীদলকে নিশানা করেছেন । তিনি বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন,’দিল্লিতে যখন একটা ব্যর্থ নেতা ভাষণ দিল তখন সে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাতিলের কথা বলেছিল । কিন্তু ড্রাফট ইলেকট্রন রোলের ১৩ কোটির মধ্যে প্রায় তিন কোটি মৃত ভোটার । নকল নাম এক কোটি । তিন কোটি এমন নাম ছিল যাদের বাড়িতে বিয়ে লোক গিয়ে খুঁজে পায়নি। ভাই ৬ কোটি ভারতীয় রয়েছে যারা নিজেদের ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন । এই পুরো প্রক্রিয়ায় ৯০ কোটি ভোটারের মধ্যে ৯০% ভোটারের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে ।’ তিনি বলেন,’বুথ লেভেল অফিসাররা প্রতিটি বুথে ঘুরে ঘুরে প্রত্যেক ভোটারের কাছে অন্তত তিনবার করে পেয়েছিল । ওই সমস্ত বুথ লেভেল অফিসাররা কাজ ঠিকমতো করছে কিনা দেখার জন্য ব্যর্থ দলের অন্তত কুড়ি লাখ এজেন্ট ছিল । আমি এই ব্যর্থ ইউপিএ-কে জিজ্ঞেস করতে চাই, পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে আপনাদের কুড়ি লাখ এজেন্ট থাকা সত্ত্বেও এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের পরিশ্রমকে কেন অবহেলা করতে চান ?’
স্মৃতি ইরানি প্রশ্ন তুলেছেন,’তৃণমূল আর কংগ্রেস কেন চাইছে মৃত ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় থাকুক ? তারা নকল নামকে কেন ভোটার তালিকায় রাখতে চাইছে ? সার্ভেতে যে ৩ কোটি লোক অনুপস্থিত তাদের নাম ভোটার তালিকায় কেন তুলতে চাইছে ? বিশেষ করে বিজেপির বুথ লেভেল এজেন্টরা একটা জিনিস লক্ষ্য করেছে যে কিভাবে তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় তুলে নিজেদের ক্ষমতা দখল নিশ্চিত করতে চেয়েছিল ।’ তিনি বলেন,’ওরা সুপ্রিম কোর্টকে অস্বীকার করছে । যে সংস্থা গনতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে কাজ করছে,সেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে । ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ।’
কংগ্রেস-সহ ‘ইন্ডি’ জোটকে আক্রমণ করেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, “কংগ্রেস আগে থেকেই নির্বাচন হারছে। এবার কমিশনকে দোষ দিচ্ছে। ২০২৪ সালে জ্ঞানেশকুমার নির্বাচন কমিশনারই ছিলেন না।” মোদি সরকারকে মসনদ থেকে নামাতে ও দেশকে বদনাম করতে বিদেশি সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। স্মৃতির কথায়, “রাহুল গান্ধী লন্ডনে গিয় বলছেন মোদিকে হারাতে চান।” স্মৃতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় না লড়ে দিল্লিতে লড়াই করছেন কেন সেই প্রশ্ন তোলেন। বলেন,’এখানে অধীর, মমতা, সিপিএম মিছিল করুক। এখানে কিছু করছে না, দিল্লিতে গিয়ে হাত মেলাচ্ছে।’।

