এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০১ নভেম্বর : গতকাল ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে পাইলটকে ছুরিকাঘাতকারী ওমানি সহ-পাইলট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইহুদিদের হত্যা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা টাইমস অফ ইসরায়েলকে জানিয়েছেন।ওই কর্মকর্তা আরও জানান যে, হামলাকারী ফ্লাইটের যাত্রীদের সঙ্গে কথোপকথনের উদ্ধৃতি দিয়ে আমিরাতি ক্রু সদস্যদের তাকে হত্যা করতে বলেছিল।কর্মকর্তাটি বলেন,’এই ব্যক্তি আত্মহত্যা করতে ইচ্ছুক ছিল ।তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, সে জিহাদি মতাদর্শে উগ্রপন্থী হয়ে উঠেছে। সে ইহুদিদের হত্যা করার কথা বলে।’
কর্মকর্তাটি আরও বলেন,’তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না ।তবে এটা অবশ্যই মনে হচ্ছে যে সে একজন আত্মঘাতী পরিকল্পনাকারী ছিল এবং সম্ভবত বিমানটি ভূপাতিত করার চেষ্টা করছিল।’ কর্মকর্তাটি আরও বলেন, ‘আমরা যা জানতে পেরেছি, তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তর করা হবে । আমরা সেই তদন্তের অংশ হব।’ এরই মধ্যে ইসরায়েল নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালাচ্ছে এবং নিরাপত্তা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
সৌদি আরব ও ইউএই-এর তদন্ত প্রক্রিয়ায় সন্দেহ
বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইট এফজেড ১০৭৩-এ সম্ভাব্য “সন্ত্রাসী কার্যকলাপের” বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ইসরায়েলি যাত্রীবোঝাই বিমানটি বিধ্বস্ত করার স্পষ্ট চেষ্টায় সহ-পাইলট পাইলটকে ছুরিকাঘাত করার পর বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে।
উপসাগরীয় দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার মতে, এই তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্য উদঘাটন করা হচ্ছে এবং এটি নির্ধারণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, “ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিনা, অথবা এর পেছনে কোনো পূর্ব পরিকল্পনা বা নির্দেশনা ছিল কিনা।” সংস্থাটি জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল এই তদন্তগুলোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেহেতু বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিবন্ধিত এবং দেশটির পতাকাবাহী, তাই এই ঘটনার ওপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, বিমানের ভেতরে সংঘটিত অপরাধ দেশের ভূখণ্ডের বাইরে ঘটলেও তার ক্ষেত্রে আমিরাতের আইন প্রযোজ্য হবে।
তদন্ত সম্পর্কে অবহিত একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি একজন ওমানি নাগরিক এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনার উদ্দেশ্য উদঘাটনের চেষ্টায় সৌদি কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছে। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ওমানও এই ঘটনায় জড়িত। তবে ওই কর্মকর্তা ইসরায়েলি সম্পৃক্ততার মাত্রা সম্পর্কে কিছু জানাননি।
তদন্ত নিয়ে আলোচনার জন্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন,’সন্ত্রাসবাদ থেকে শুরু করে মানসিক অসুস্থতা পর্যন্ত সব সম্ভাব্য পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত কোনো কিছুই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না ।’ তার এই মন্তব্যের পরই সন্দেহ হচ্ছে যে, সন্ত্রাসী হামলাকে লঘু করার জন্য পাইলটকে মানসিক অসুস্থ বলে চালিয়ে দিতে পারে ইউএই এবং সৌদি আরব ।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক্স-কে জানিয়েছে, গতকাল বিমানে ব্যর্থ হামলায় ছুরিকাহত ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলটকে সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। পোস্টটিতে বলা হয়েছে,’ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তাল হাসপাতালে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। ক্যাপ্টেন মাচ্ছার সুস্থ আছেন এবং ভালোভাবে সেরে উঠছেন। তাঁর নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখছে।’।

