মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে এবার ‘জেল ভরো আন্দোলন’ বা গণ-গ্রেফতার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করেছে ভারতের ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে এই আন্দোলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এই কথিত আন্দোলনের আড়ালে রয়েছে সুগভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র । আর এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু দেশদ্রোহী দল ও ব্যক্তিত্ব । উদ্দেশ্য নেপালের মত মানুষ খেপিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে যেনতেন প্রকারেণ ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা ৷ শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের নামে আগের বার ঠিক যেভাবে ছাত্রদের উসকে দিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা হয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় একই রকম ভাবে ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছে ৷ আর এতে উঠে আসছে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল, খ্রিস্টান মিশনারী ও ইসলামি সংগঠনের নাম ।
ভারতে ক্ষমতা পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের কারন, কবে থেকে শুরু হয়েছিল এবং এর পিছনে অর্থায়ন কোথা থেকে হয়েছে, তার উন্মোচন করেছেন সাংবাদিক বিজয় প্যাটেল । তাঁর গবেষণামূলক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিদেশি অনুদান(FCRA) ও মাদক ওষুধের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকারের কঠোর অবস্থানের কারনে কিভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রের স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার এই ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছে । অফিস অফ বিজয় প্যাটেল নামে তার এক্স হ্যান্ডেলে (@OnlyFactIndia) লেখা প্রতিবেদনটি নিচে তুলে ধরা হল :
ফের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাতে গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো হয়েছে । যার আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে আগামী ২ অক্টোবর দিল্লিতে৷
একটি গোপন বৈঠক : দুই বছর আগে, ভারতে সমস্ত পেশাদার বিক্ষোভকারীদের পরিচালনাকারী একটি ছোট দল ইউরোপের একটি দেশে একটি গোপন বৈঠক করেছিল। তারা সবাই তাদের বিদেশী অর্থায়ন নিয়ে চিন্তিত ছিল, কারণ তাদের নিজেদের বা তাদের সহযোগীদের বেশিরভাগ এনজিও-র এফসিআরএ (FCRA) লাইসেন্স বাতিল হয়ে গিয়েছিল।তাদের জন্য দুঃস্বপ্ন ছিল এফসিআরএ ২.০ (FCRA 2.0), কারণ বিদেশী অর্থায়নে তৈরি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা এর রয়েছে।
তারা সবাই একমত হয়েছিল যে, যেভাবেই হোক এই সরকারকে সরাতে হবে। কিন্তু কাকে সামনে আনা হবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল।তারা সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে বর্তমান ভারতীয় সরকারকে সরানোর দিকে মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।সেই বৈঠকে কয়েকজন মার্ক্সবাদী অধ্যাপক, আইনজীবী এবং সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।অধ্যাপকদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ নাগরিক, যার স্বামী একজন বড় মার্ক্সবাদী রাজনীতিবিদ এবং সিজেপি (CJP) বিক্ষোভে মাওবাদী ছাত্রদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে একজন প্রধান ব্যক্তি।
বিজয় প্যাটেলের কথায়,এটি বছরের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর থ্রেড হতে পারে।এই থ্রেডটি পড়ুন, তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন কেন সিজেপি এবং অন্যান্য পেশাদার বিক্ষোভকারীরা পশ্চিমা দেশগুলো থেকে এত সমর্থন পায় এবং এফসিআরএ-এর ভূমিকা কী।
তিনি লিখেছেন,প্রথমেই মার্কিন নাগরিক দীনেশ ঠাকুরের সাথে পরিচিত হন, যিনি সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাসকে অর্থায়ন করেন। ১৯৯৭ সালে ফাইজার ইতিহাসের অন্যতম সর্বাধিক বিক্রিত ঔষধ লিপিটর বাজারে আনে।২০০২ সালের আগস্ট মাসে ভারতীয় কোম্পানি র্যানব্যাক্সি জেনেরিক লিপিটরের জন্য একটি ANDA (এন্ডোমেডিক্যাল ড্রাগ অ্যাপ্লিকেশন) দাখিল করে।২০০৩ সালে ফাইজার র্যানব্যাক্সির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।
২০০৩ সালের মে মাসে দীনেশ ঠাকুর এবং তার বন্ধু দীনেশ কাস্তুরিল র্যানব্যাক্সিতে যোগ দেন।সেই বছরই দীনেশ ঠাকুর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।২০০৫ সালে দীনেশ র্যানব্যাক্সির বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁসকারী হন। এটি র্যানব্যাক্সিকে অচল করে দিয়েছে।
তিনি র্যানব্যাক্সি ছেড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফাইজারের প্রযুক্তিগত অংশীদার ইনফোসিস টেকনোলজিসে যোগ দেন।২০০৭ সালে দীনেশ ঠাকুর ফাইজার ইন্ডিয়ার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর চিত্রা লেলের সাথে যৌথভাবে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।
আরেকজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন দীনেশ কাস্তুরিল।
অশোক গাঙ্গুলী দীনেশ ঠাকুরের কোম্পানির উপদেষ্টা পর্ষদে ছিলেন।অশোক উইপ্রো এবং মাইক্রোসফটের পর্ষদেও ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টাও ছিলেন।উইপ্রো ফাইজারকে প্রযুক্তিগত এবং কেপিও পরিষেবাও প্রদান করে।আশ্চর্যজনকভাবে, দীনেশ ঠাকুরের সহ-প্রতিষ্ঠাতা দীনেশ কাস্তুরিল এখন উইপ্রোতে কাজ করেন।
দীনেশ ঠাকুর, রানব্যাক্সির সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত ভারতীয় ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা, যার মাধ্যমে ফাইজার আনুমানিক ১০০ বিলিয়ন ডলার লাভবান হয়েছিল। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন। এর পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলার।
২০১৫ সালে, উইপ্রোর আজিম প্রেমজি এবং ইনফোসিসের নিলেকানি অন্যান্য ফার্মা ও আইটি কোম্পানিগুলোর সাথে মিলে ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল শুরু করেন। তারা ‘দ্য ওয়্যার’ এবং ‘অল্টনিউজ’-এর মতো মার্ক্সবাদী ও ইসলামপন্থীদের অর্থায়ন শুরু করেন।
রানব্যাক্সির বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁস করার জন্য দীনেশ ঠাকুর মার্কিন সরকারের কাছ থেকেও লক্ষ লক্ষ ডলার পেয়েছিলেন। তিনি ঠাকুর ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনও প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেইসব ব্যক্তি ও সংগঠনকে অর্থায়ন শুরু করেন, যারা আইপিএসএমএফ থেকে তহবিল পেত।
সিজেপি-তে সক্রিয়, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আরটিআই সহযোগী এবং সৌরভ দাসের গুরু অঞ্জলি ভরদ্বাজ ঠাকুর পরিবার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা বোর্ডে ছিলেন।ফাইজারের মতো বড় ওষুধ কোম্পানিগুলো ওয়ার্ল্ড ভিশন, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং অ্যাকশন এইডের মতো আন্তর্জাতিক খ্রিস্টান এনজিওগুলোর মাধ্যমে তাদের অর্থায়ন করে থাকে।
ভারতে হর্ষ মন্দর ও শাবানা আজমির মতো ব্যক্তিরা বছরের পর বছর ধরে এই এনজিওগুলো চালিয়ে আসছেন।মজার ব্যাপার হলো, আজিম প্রেমজিও এই এনজিওগুলোকে এবং হর্ষ মন্দরের ব্যক্তিগত এনজিওকেও অর্থায়ন করেন।এই কারণেই হর্ষ মন্দরের এনজিও-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যঁ দ্রেজ প্রতিবাদস্থলে উপস্থিত ছিলেন, যখন হর্ষ মন্দর নিজে প্রতিবাদের পর তাঁর অভিনেতাদের পুরস্কৃত করছিলেন।
এটাও বিস্ময়কর যে, আজিম প্রেমজির অর্থায়নে পরিচালিত ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনই জেন জি প্রতিবাদের দুটি ভিন্ন রূপের নেপথ্যে ছিল।তারা সরকারি ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়ার জন্য একটি সম্পূর্ণ সরঞ্জাম-সমষ্টি তৈরি করেছে।এমনকি তারা ইন্টারনেট বন্ধের বিরুদ্ধে এবং সক্রিয়ভাবে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ছড়ানো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো পুনরুদ্ধার করার জন্য আদালতেও গিয়েছিল।
তিনি লিখেছেন,ঠাকুর ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন বিষয়ে @DisinfoLab-এর এই থ্রেডটি আপনার অবশ্যই পড়া উচিত : সিজেপি-র অনানুষ্ঠানিক মুখপাত্র পিক টিভি থেকে শুরু করে মার্ক্সবাদী পর্যন্ত, দ্য রেড মাইক, নিউজ লন্ড্রি, অল্টনিউজ এবং দ্য ওয়্যার আইপিএসএমএফ এবং ঠাকুর ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন দ্বারা অর্থায়নপ্রাপ্ত। এদের সবাই অতিমাত্রায় সক্রিয় ছিল ৷
আগামী কাল শুক্রবার(২ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে কথিত আন্দোলনের আড়ালে কিভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টির ব্লুপ্রিন্ট রচনা করা হয়েছে ? দাবি করা হচ্ছে যে,প্রথমে আম আদমি পার্টির ছাত্র সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এই কথিত আন্দোলন শুরু করবে । তারপর ধাপে ধাপে যোগ দেবে কংগ্রেস ও বামপন্থীদের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলি । পরের দিকে পর্যায়ক্রমে এতে যোগ দেবে বিভিন্ন খ্রিস্টান মিশনারী ও ইসলামি সংগঠনগুলি ।
এটাও মনে করা হচ্ছে যে, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং যন্তর মন্তরে হিংসাত্মক ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে যেভাবে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল,তাতে উৎসাহিত কেজরিওয়াল ও যোগেন্দ্র যাদবের তরুন উইং অভিজিৎ দিপকেরা । তারা মনে করছে যে, এবারে তারা রাজধানীর রাজপথে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করে নরেন্দ্র মোদীকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সক্ষম হবে । এখন দেখার বিষয় কিভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে মোদী সরকারের থিঙ্ক ট্যাংক ।।

