এইদিন ওয়েবডেস্ক,মঙ্গলকোট(পূর্ব বর্ধমান),২৯ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও তাদের জাল বিস্তার করেছে ! জেলার মঙ্গলকোট থানার পালিশগ্রামের একটি মসজিদের ইমামকে জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ গ্রেপ্তার করার পরেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হল । জানা গেছে,ধৃত ইমামের নাম পেয়ার মহম্মদ সেখ (৬০)। তার বাড়ি মন্তেশ্বর থানার কুলুট গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়,প্রায়ই বাংলাদেশে যেতো পেয়ার মহম্মদ সেখ । তবে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ যোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এনআইএ-এর হাতে পিয়ার মহম্মদ সেখের আটক হওয়ার খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন মঙ্গলকোটে আসে। তবে এখনও পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও মতামত জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে পালিশগ্রাম পূর্বপাড়া মসজিদে প্রায় তিন বছর ধরে ইমানের কাজ করছিলেন পিয়ার মহম্মদ সেখ। আজ মঙ্গলবার ভোরে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ বাহিনী সঙ্গে নিয়ে এনআইএ-এর চারজনের একটি দল মসজিদ থেকে ডেকে পিয়ার মহম্মদ সেখকে আটক করে । তারপর মসজিদের যে ঘরে ওই ইমাম থাকত সেই ঘরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখান থেকে একটি ডাইরি এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে এনআইএ । সূত্রের খবর, ডাইরিতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির নম্বর পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এরপর তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে আসা হয় মঙ্গলকোট থানায়। এখনও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
মসজিদ কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তাফা, গ্রামবাসী মনি কাজিরা জানিয়েছেন মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশে যাতায়াত ছিল পিয়ার মহম্মদ সেখের । তিনবছর মসজিদে কাজ করার মধ্যে ছয় মাস তিনি বাংলালেশে ছিলেন। তারপর কয়েক মাস আগে আবার ফিরে আসেন।
এর আগে ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমান শহরের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর সরাসরি সন্ত্রাসী যোগ ও বড় ধরনের নাশকতার ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মিলেছিল। তদন্তে জানা যায়, বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জেএমবি ভারতে তাদের জাল বিস্তার করছিল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে রিক্রুটমেন্ট, স্লিপার সেল তৈরি এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরকের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল। এই ঘটনায় গত বছর মহম্মদ রুবেল, জাহিরুল ইসলাম, মহম্মদ শহিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন-সহ পাঁচ জেএমবি (JMB) সন্ত্রাসীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় নগর দায়রা আদালত । পাঁচজনই নিজেদের দোষ কবুল করে ।
মঙ্গলকোটের কুলসুনো গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম খাগড়াগড় বিস্ফোরণের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল এবং মঙ্গলকোটের শিমুলিয়া মাদ্রাসায় ট্রেনার বা শিক্ষক হিসেবে যুক্ত থেকে জেহাদিদের প্রশিক্ষণ দিত । বিস্ফোরণের ঠিক পরপরই খাগড়াগড়ের বাড়িটি থেকে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়েছিল, যার সূত্র ধরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) তাকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও, এই মামলার মূল চক্রীদের অন্যতম এবং মঙ্গলকোটের শিমুলিয়া মাদ্রাসার জমিটির ক্রেতা বুরহান শেখ -কেও পরবর্তীকালে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করে । ফের একজন মসজিদের ইমাম বাংলাদেশের সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে মঙ্গলকোটে।।
