এইদিন ওয়েবডেস্ক,পূর্ব মেদিনীপুর,২৭ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ নয়, খোদ এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেলাতেই দুর্গাপূজার খুঁটিপূজোতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজনের বিরুদ্ধে । ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাহারগ্রামে। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় । খবর পেয়ে পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেয় । শেষ পর্যন্ত পুলিশের উপস্থিতিতে খুঁটিপূজো পর্ব সম্পন্ন হয় ।
পাঁশকুড়া ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাহারগ্রামটি মুসলিম অধ্যুষিত । স্থানীয় হিন্দুদের কথায়, এতদিন গ্রামে কোনো পূজোর আয়োজন করার অনুমতি মিলতো না । রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায় এই প্রথম গ্রামে দুর্গাপূজার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । জানা গেছে, স্থানীয় হিন্দু মহিলারা উদ্যোগী হয়ে “মা ভবানী ফাউন্ডেশন” নামে একটি ক্লাব গঠন করেন । ক্লাবটি সরকারি নথিভুক্ত । ওই ক্লাবের উদ্যোগেই এবারে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে । গত ২৪ সেপ্টেম্বর ছিল খুঁটি পুজো । আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সিন্টু সেনাপতি ।
পূজা উদ্যোক্তা পুতুল ঘোড়ুই,অমৃতা অধিকারীরা জানান, পূজোর সব আয়োজন সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল । পুরোহিতও এসে গিয়েছিলেন । ঠিক সেই সময় পূজো বন্ধ করতে ১৫০-২০০ জন মুসলিম মহিলাকে এগিয়ে দেওয়া হয় ঝামেলা পাকানোর জন্য । গ্রামে হিন্দুদের কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে দেওয়া হবে না বলেও তারা হুমকি দেয় বলে অভিযোগ তাদের।
পুতুল ঘোড়ুই বলেন,’রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী সরকার । তারপরেও দুর্গাপূজার আয়োজন বন্ধ করার এই ষড়যন্ত্র খুবই চিন্তার বিষয় । ঘটনার পর থেকে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি । পূজোর সময় ফের বড় ধরনের কোনো ঝামেলা পাকাবে কিনা এনিয়ে আমরা খুব চিন্তায় আছি ।’ দুর্গাপূজার সময় নিরাপত্তার দাবি জানান তিনি । জানা গেছে,খুঁটি পূজোর মুহুর্তে প্রচুর মুসলিম মহিলা এসে বাধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয় । ফলে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় । খবর পেয়ে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ এসে পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনে৷ এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে পূজো পর্ব সম্পন্ন হয় । পুলিশের পক্ষ থেকে পূজার স্থানে লাগানো হয় সিসিটিভি ।
তবে শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া নয়, এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে সমুদ্রপুর স্কুল সংলগ্ন এলাকায় দুর্গাপূজার স্বাগত গেট তৈরিতে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় বাধা দেওয়ার ঘটনাতেও ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ তাঁদের গেট তৈরি করতে বাধা দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁরা দাবি করেছেন যে এলাকাটি মুসলিম প্রধান হওয়ায় এখানে এ ধরনের গেট নির্মাণ করা যাবে না । পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে । অশোকনগরের এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়ে ।।
দাবিত্যাগ : তথ্যসূত্র ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল থেকে সংগ্রীহিত ।

