এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তরপ্রদেশ,২৭ সেপ্টেম্বর : আসামের গুয়াহাটির পর এবারে উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ,ফের লাভ জিহাদের বলি হল এক হিন্দু তরুনী ৷ কাসগঞ্জে নেহা নামে ১৮ বছর বয়সী এক হিন্দু তরুনীকে খুন করে টাকাপয়সা ও সোনারূপোর গহনা লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার দুই প্রেমিক মোহাম্মদ সমির ও আরশাদ খানের বিরুদ্ধে । এই ঘটনায় দুই প্রেমিক ও তাদের ২ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । বাকি ধৃতদের মধ্যে রয়েছে মহম্মদ আরসালান এবং একজন নাবালক ।
সম্প্রতি কাসগঞ্জ সদর কোতয়ালী থানার অন্তর্গত অশোকনগরের রেল ওয়ে ক্রসিংয়ের কাছে বন্ধ থাকা পানীয় জল প্রকল্প কেন্দ্রের ভবনের ছাদে এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবতীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা । যুবতীর দেহ নগ্ন এবং তার গলা কাটা অবস্থায় ছিল ৷ খবর পেতেই পুলিশ বাহিনী অকুস্থলে পৌঁছে তরুনীর দেহ উদ্ধার করে ৷ ঘটনার তদন্তের জন্য ৫ টি দল গঠন করেন পুলিশ সুপার ওম প্রকাশ । এরপর ডগ স্কোয়াড নিয়ে ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ । পুলিশ মৃত যুবতীকে অশোকনগরের বাসিন্দা ১৮ বছরের নেহা নামে চিহ্নিত করে । তার বাড়ি অকুস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরেই । মিতার পরিচয় উদ্ধার হতেই ঘাতকদের সন্ধান শুরু করে দেয় পুলিশ । পুলিশ প্রথমেই মুহাম্মদ সমীরকে পাকড়াও করে । সে নেহার বাড়ির পাশেই থাকতো । আর পুলিশ যখন নিজেদের কায়দায় সমীরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে তখন সে সমস্ত সত্যি উগলে দেয় । পাশাপাশি ঘটনার স্থল থেকে প্রচুর তথ্য প্রমান উদ্ধার করে পুলিশ । যে সমস্ত তথ্য প্রমাণ এখনের তদন্তে পুলিশকে সাহায্য করে ।
উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ পুলিশ জানিয়েছে, সমীর জানায় যে ৩-৪ বছর আগে নেহার বন্ধুত্ব প্রথমে মোহাম্মদ আরশাদের সঙ্গে হয় । বিষয়টি যখন সমীর জানতে পারে তখন সেও নেহার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে । মাস দুয়েক আগে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসা সম্পর্ক গড়ে ওঠে । নিয়মিত কথাবার্তাও শুরু হয় তাদের মধ্যে ।
পুলিশ জানিয়েছে, একদিনে রাত্রি প্রায় একটা নাগাদ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় নেহা । পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানায় যে,বড় মেয়ের বিয়ের জন্য বাড়িতে রাখা ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং শোনার উপর যাবতীয় গয়নাও সঙ্গে নিয়ে গেছে নেহা । অক্টোবর মাসে নিহার দিদির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ সমীর জানায় যে, নেহার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর একদিন তার টাকার প্রয়োজন পড়ে। সে নিহাকে বিষয়টি জানায় । এরপর নেহা ৮ হাজার টাকা বাড়ি থেকে চুরি করে তার হাতে তুলে দেয় । কিন্তু এর মাঝেই নেহা তার বাড়ির এমন একটা কথা প্রকাশ করে যার ফলে সমীরের মধ্যে লোভ ঢুকে যায় । নেহা তাকে জানাই যে বাড়িতে আরও টাকা পয়সা এবং গহনা রাখা আছে । যদি তার টাকার দরকার পড়ে তাহলে সেগুলো সে চুরি করে এনে তার হাতে তুলে দেবে । কিন্তু তার পরিবর্তে নেহা তার প্রেমিক সমীরের কাছে একটা শর্ত রাখে । আর সেই শর্ত হলো যে, নেহাকে বাড়ি থেকে নিয়ে পালাতে হবে । সমীর শর্তে রাজি হয়ে যায় । এরপর ঘটনার দিন রাত একটা নাগাদ বাড়ি থেকে যাবতীয় টাকা-পয়সা এবং গহনা ব্যাগে ভরে নিয়ে পালিয়ে যায় নেহা ।
পুলিশ তদন্ত জানতে পারে, তার আগে থেকেই নেহাকে খুন করে টাকা পয়সা এবং গহনা হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করে মোহাম্মদ সমির । কিন্তু পুরো ঘটনাকে একা বাস্তবায়িত করতে পারবে না বলে বাকি চারজনের সাহায্য নেয় । এরপর মুহাম্মদ সমীর তার পরিকল্পনার কথা মোহাম্মদ আরশাদ, মহম্মদ আরসালান একজন নাবালককে জানায়। এরপর ঘটনার দিন রাতে নেহাকে ডাকে সমীর । নেহা তার প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিয়ে দিদির বিয়ের জন্য রাখা এক লাখ 35 হাজার টাকা এবং যাবতীয় গহনা ব্যাগে ভরে রাত্রে একটা নাগর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় ।
পুলিশ জানতে পারে,ওই চারজন নেহাকে অশোকনগরের রেলওয়ে ক্রসিংয়ের কাছে ফতে সিংয়ের টিউবওয়েল ভবনের কাছে নিয়ে যায় । প্রথমে সমীর নেহার ওড়না দিয়ে তার শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে৷ যার ফলে নেহা অজ্ঞান হয়ে যায় । এরপর সমীর তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে একটা ছুরি দিয়ে তার গলার পেঁচিয়ে কেটে ফেলে । সেই সময় অন্য অভিযুক্তরা কেউ তার হাত ধরেছিল, কেউ তার পা ধরেছিল । নেহার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার দেহ পাচার করার পরিকল্পনা করে চারজন ।
পুলিশ জানতে পেরেছে যে,প্রথমে তারা নেহার দেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করে। তাদের এটাই পরিকল্পনা ছিল যে, নেহার শরীর থেকে সমস্ত পোশাক খুলে নিয়ে তাকে পুড়িয়ে ফেলা যাতে তাকে সনাক্ত না করা যায় । কিন্তু সেই সময় একটা গাড়ি রাস্তা দিয়ে আসায় তারা ভয় পেয়ে যায় । আর সেই ভয় থেকেই নেহার নগ্ন দেহটা পরিতক্ত ভবনের ছাদের ওপর ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় । নেহার পোশাক ও চপ্পল অকুস্থল থেকে এক কিলোমিটার বৃত্তের মধ্যে নিয়ে গিয়ে তারা পুড়িয়ে দেয় । যদিও সেখান থেকে পরে পুলিশ সেগুলির অবশেষে সংগ্রহ করতে সমর্থ হয় ।
পুরো ঘটনার খোলসা করে পুলিশ আর অভিযুক্ত কে গ্রেফতার করেছে । ধৃতদে কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ১০০ টাকা নগদ, সোনারূপোর গহনা,মৃতার মোবাইল ফোন ও ওড়না এবং খুনি ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করেছে ।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কাশগঞ্জের পুলিশ সুপার ওম প্রকাশ এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে একটা বার্তা দিয়েছেন । তিনি বলেছেন,’এই ঘটনার পর থেকে আপনারা শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করুন । কারণ নেহা যেভাবে প্রেমের ফাঁদে পড়ে বাড়ি থেকে টাকা পয়সা গহনা চুরি করে নিয়ে প্রেমিককে দিতে চেয়েছিল, তাতে সে কি পেল? ওর ইজ্জত গেল, ওর প্রাণ গেল, ওর গহনা ও চলে গেল ।’।

