এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,৩০ আগস্ট : মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূলের প্রধান লাভলি খাতুনকে নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। ‘বাংলাদেশি’ বিতর্কে বাতিল হয়েছে তার জাতিগত শংসাপত্র। খোয়াতে হয়েছিল পঞ্চায়েত প্রধানের পদ। এবারে আরও এক লাভলি খাতুনের হদিশ মিললো মালদায় । মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার গোলাপগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান চেমানি বিবির বিরুদ্ধে নথি জাল করে ভারতীয় নাগরিক বনে যাওয়া ও সেই নথির জোরে তৃণমূলের হয়ে পঞ্চায়েত ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার অভিযোগ উঠেছে ।
অভিযোগ, বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা চেমানি বিবি ২০০৬ সালে ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে । তার আগে তাঁর বাংলাদেশেই বিয়ে হয়। সেই নিকাহনামাও আছে। তাঁর স্বামীও বাংলাদেশি। ৫ বছরের শিশু সন্তান নিয়ে তিনি ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন। পরে আবার ভারতে এসে নিকাহ করেন। তাঁর বাবার এখনও বাংলাদেশের ভোটার কার্ড আছে । ভারতে আসার পর জাল পরিচয়পত্র ও ওবিসি শংসাপত্র তৈরি করেন চেমনি বিবি । এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। যাবতীয় তথ্য প্রমাণ সহ পুলিশ সুপার, বিডিও, এসডিওর কাছে অভিযোগ করা হয়েছে । অভিযোগ পাঠানো হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও ।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর পরিবারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার, বিডিও ও এসডিওর কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার তদন্তের দাবি তুলেছেন। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও বিষয়টি নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করেছেন । অগ্নিমিত্রা পাল বলেন,’পঞ্চায়েত প্রধান, কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সমিতির প্রধান, এরকম বিভিন্ন পদে বাংলাদেশির বসানো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ঢুকলো কীভাবে? হ্যাঁ, সীমান্তে বিএসএফ রয়েছে। বিএসএফের কিছু কিছু দোষ রয়েছে। কিন্তু, ঢোকার পর পেপারগুলো কে তৈরি করে দিয়েছিল? আপনি। পঞ্চায়েতে এদের আপনি টিকিট দিয়েছেন।’
উল্লেখ্য,গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মালদার কালিয়াচক-৩ নম্বর ব্লকের গোলাপগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে কংগ্রেস । প্রধান হন কংগ্রেসের তাহসিনা বিবি । গত ৩০ শে জুলাই তার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয় । এরপর তাহসিনা বিবিকে অপসারণ করা হয় । পরে তলবি সভা ডাকে প্রশাসন । গত ১০ আগস্ট কংগ্রেস সদস্য কৃষ্ণ মন্ডল জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন চেমানি বিবি আদপে একজন বাংলাদেশী নাগরিক । তাই অনাস্থায় তলবি সভায় তিনি অংশগ্রহণ করলে আইনবিরুদ্ধ কাজ হবে । তার সেই অভিযোগের পরেও চলতি মাসের ২৭ তারিখে নতুন প্রধান নির্বাচিত হন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা চেমানি বিবি । কিন্তু মজার বিষয় হলো যে তৃণমূলের ৫ সদস্য, ২ জন নির্দল এবং কংগ্রেসের ৬ জন সদস্য ছাড়াও চেমনি বিবিকে ভোট দেন বিজেপির ৩ জন সদস্যও ।
টিভি ৯ বাংলার অনলাইন এডিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং এই বিষয়ে বলেছেন,’এখানে একটা টেকনিক্যাল ব্যাপার রয়েছে। চেমানি বিবির বাবা রফিক আগে ভারতীয় ছিলেন। ৩০-৪০ বছর আগে বাংলাদেশে চলে যান। ওখানে ভোটার কার্ড করেন। বিয়ে করেন। চেমানি বিবির ওখানেই জন্ম হয়েছে। তারপর তাঁরা ২০০৬ সালে ভারতে অবৈধভাবে আসেন। চেমানি বিবির আগেও বাংলাদেশে বিয়ে হয়েছিল। তারপর এখানে এসে ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করেন। তারপর ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ওঠে। অনেক টেকনিক্যাল ব্যাপার রয়েছে। আমরা সব জিনিসটা দেখছি। প্রশাসনের উচ্চস্তরে আলোচনা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হবে। তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আইনি পদক্ষেপ করা হবে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈষ্ণবনগর এবং কালিয়াচক দুই থানাকেই তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।।
