এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাঠমান্ডু,২৭ আগস্ট : নেপাল- চীন সীমান্তে সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী হড়পা বনে (Nepal Flash Flood) এখনো পর্যন্ত ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন । নিখোঁজদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটকসহ ৩৮৪ জন ভ্রমণকারী রয়েছেন বলে জানা গেছে । নেপথ্যে কারণ কী ভূমিকম্প নাকি অন্য কিছু? চাঞ্চল্যকর তথ্য জানাল মার্কিন সংস্থা।
জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পের জেরে নয়, বরং হিমবাহ ধসে (Glacier Collapse) তৈরি হওয়া ভয়াবহ কাদা ও পাথরের স্রোতই ধুয়েমুছে সাফ করে দিয়েছে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। বুধবারে হন। এই বন্যার কারণ ছিল একটি হিমবাহ থেকে ভেঙে পড়া ২,০০০ ফুট চওড়া এক খণ্ড বরফ। বরফের বিশাল খণ্ডটি ৪,০০০ ফুট সোজা নিচে আছড়ে পড়ে। পতনের সাথে সাথে এটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং কাদা ও পাথরের সাথে মিশে ধ্বংসাবশেষের একটি দ্রুতগামী, ২৫০ ফুট উঁচু দেয়াল তৈরি করে, যা ঘণ্টায় ৪৪ মাইল বেগে নদীর তীরবর্তী জনবসতিগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। ভূমিধসের প্রচণ্ড শক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে এর ফলে ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে মার্কিন সংস্থাটি জানিয়েছে, নেপাল-চিন সীমান্তের লেন্ডে নদীতে আইস-রক বা বরফ ও পাথরের বিরাট ধস নামে। লেন্ডে নদীটি ভোটেকোশী নদীর একটি উপনদী, যা তিব্বত থেকে নেপালে প্রবেশ করেছে। এই হিমবাহ ধসের আঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে তা ভূগর্ভে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য কম্পন সৃষ্টি করে এবং নিমেষের মধ্যে নদীপথে প্রলয়ঙ্করী বন্যার সৃষ্টি হয় ।
নেপালে হড়পা বানে রাসুয়া, ধাদিং এবং নুয়াকোট জেলা হড়পায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শত শত বিদেশী পর্যটক সেই সময় গ্রামগুলিতে ছিলেন । নেপাল পর্যটন মন্ত্রক জানিয়েছে, দুর্যোগের পর চার শতাধিক পর্যটকের সন্ধান মেলেনি, যার মধ্যে রয়েছেন প্রচুর ভারতীয় পর্যটকও। এছাড়া ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার নাগরিকরাও নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বত সীমান্তে চিন ভূখণ্ডেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩ জনের মৃত্যু ও আড়াই শতাধিক মানুষের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গিয়েছে।
বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে বর্তমানে বিদ্যুৎ সহ যাবতীয় পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেছে৷ যার প্রভাব পড়ছে তল্লাশি অভিযানে। নুয়াকোট ও ধাদিং সেনাক্যাম্পের বাইরে নিখোঁজদের আত্মীয় স্বজনরা মোবাইলের আলো জ্বেলে নাম নথিভুক্ত করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সব সরকারি সম্পদ ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। হেলিকপ্টারে করে উপদ্রুত এলাকা থেকে জীবিতদের নিরাপদে সরিয়ে আনার কাজ চলছে।।
Nepal Flood,
