এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,২৭ আগস্ট : বাংলাদেশের রংপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), তাদের মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৪) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)কে খুনের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে । হত্যার আগে প্রীতিলতাদেবী ও তার মেয়েকে ধর্ষণ বা গনধর্ষণ করা হয়েছিল বলে আগেই জানিয়েছে ময়নাতদন্ত করা ডোম । এছাড়া,হত্যার আগে ছোট্ট প্রিয়মের লিঙ্গচ্ছেদ পর্যন্ত করা হয়েছিল বলে জানতে পারা যাচ্ছে ।প্রার্থী চক্রবর্তীর গোপনাঙ্গ রাসায়নিক দিয়ে পোড়ানো পর্যন্ত হয়েছিল ।ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকাচ্ছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ! রংপুরের ওই পরিবারের গনহত্যার সঙ্গে সন্ত্রাসী যোগ আড়াল করতে পুলিশ এই তথ্যগুলো গোপন করেছে বলে অভিযোগ উঠছে ।
এবারে অকুস্থলে প্রমান লোপাটের জন্য পরিকল্পিত ভাবে রাতভর নিহত শিক্ষকের বাড়ির মোটর পাম্প চালানোর অভিযোগ উঠেছে । হত্যাকাণ্ডে ধৃত সিদ্ধার্থ দাসের পরিবার দাবি করেছেন, নিহতের বাড়ির ছাদ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে । সিদ্ধার্থের দাদা পার্থ দাস জানান, সন্ধ্যার পর বাড়ির লাইট অফ ছিল। সেসময় তিনি দেখেন বাড়ির ছাদ থেকে প্রচুর জল পড়ছে। বিষয়টি দায়িত্বরত পুলিশকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, ভুল করে লাইটের সুইচ মনে করে মোটর চালু হয়ে ট্যাংক উপচে জল পড়েছে। এমমকি পুলিশের ওই সদস্যরা তাকে এটি অন্য কাউকে না জানাতে অনুরোধ করেন। পরে তার কাছে জানতে চান তিনি কে হয়। এসময় পার্থ ওই পুলিশদের জানায়, ‘আমি ধৃত সিদ্ধার্থের দাসা ।’ এ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বলেন।
তবে মামলাটি দায়িত্বে থাকা মহানগর গোয়েন্দা ডিবি পুলিশ দাবি করেছে, বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত থাকা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কেউ একজন লাইটের সুইচের পরিবর্তে মোটরের সুইচ অন করে দেওয়ায় ট্যাংক থেকে জল উপচে পড়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশের দেবু বর্মনের বাড়ির তিনতলার ছাদ থেকে দেখা যায়, গণপতির বাড়ির ছাদটি জলে ভেজা। তবে ছাদের একটি কোণা শুকনো ছিল। এ সময় ছাদটি মুছে ফেলার কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ডিবির উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘ভুল করে আমাদের কেউ হয়ত মোটর চালিয়ে দিয়েছিল। ওইটা পরে জল ওভারফ্লো করছে। লাইটের সুইচ দিতে গিয়ে মোটরের সুইচ দিয়ে ফেলছে, ওরা চেনে না তো। মোটর চলছে, পরে জল পড়া দেখে উপরে গিয়ে বন্ধ করছে। এখানে কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নাই।’
এর আগে গত শনিবার (২২ আগস্ট) নগরীরর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গণপতির দাদা গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে খুনের মামলা রজু করেন। পরে এ ঘটনায় প্রতিবেশী দুই যুবক মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে পুলিশের দাবি ।
তবে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর দাদা গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেছেন,’আমার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের কোনো সঠিক তদন্ত হয়নি। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে না। এর পেছনে একটি বৃহত্তর শক্তি রয়েছে, যা পুলিশ প্রকাশ করছে না।’।

