এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),২১ আগস্ট : গ্রাম্যদেবীর পুজোয় আগে পাঁঠাবলি দেওয়া নিয়ে বিবাদের জেরে এক পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ উঠল অন্য একটি পরিবারের বিরুদ্ধে ।অন্য পরিবারটি একই গ্রামের বাসিন্দা ভিন সম্প্রদায়ের লোকজনকে জড়ো করে বাড়িতে চড়াও হয়ে এক মহিলা ও তার নাবালিকা মেয়েকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ । ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার রাজিপুর গ্রামে। আক্রান্ত পরিবারটি থানায় আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে । অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ । বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ভাতার প্রখণ্ডের সম্পাদক সোমনাথ মাজি বলেছেন,’আমরা পুলিশের কাছে আবেদন রেখেছি যে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক ।’ এছাড়া এলাকায় যাতে ফের উত্তেজনা না ছড়ায় তার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পুলিশের কাছে তিনি আবেদন জানিয়েছেন বলেও জানান। এদিকে ঘটনার পর এলাকায় যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়, সে জন্য পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দিন তিনেক আগে রাজিপুর গ্রামের একটি পাড়ায় বাৎসরিক মনসাপুজো ছিল । কার পাঁঠা আগে দেবীর কাছে উৎসর্গ করা হবে এনিয়ে বংশ মালিক ও তার প্রতিবেশী বিধান মালিকদের মধ্যে ঝামেলা বাধে । বংশ মালিকের অভিযোগ,তাঁদের পরিবারের তরফে উৎসর্গ করা পাঁঠাই প্রথমে বলি দেওয়া হয়। কিন্তু এবারে প্রতিবেশী বিধান মালিক ও সঞ্জয় মালিকেরা জোর করে তাঁদের পাঁঠা আগে বলি দেয় ।
জানা গেছে,এনিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে পুজোর দিন থেকেই উত্তেজনা চলছিল । এরপর বৃহস্পতিবার রাতে বিধান ও সঞ্জয়রা মুসলিম পাড়া থেকে সাজাহান সেখ, ডালিম সেখ, হাঁসু সেখ-সহ কয়েক জনকে জড়ো করে বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় বলে অভিযোগ বংশ মালিকের ৷ তার অভিযোগ, লোকজন বাড়িতে ঢুকে তাকে ও তার ভাই অজিত মালিককে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে । সেই সময় তার স্ত্রী রীতাদেবী ও মেয়ে তিথি তাদের বাঁচাতে ছুটে এলে তাদেরও বেধড়ক মারধর করা হয় ।
জানা যায়,বিষয়টি ভিন্ন দিকে মোড় নেওয়ায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় গ্রামে । খবর পেয়ে ভাতার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ থানায় অভিযোগ দায়ের করে আক্রান্ত পরিবারটি । অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েক জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে,ঘটনার তদন্ত চলছে।।
