প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৭ আগস্ট : বীরভূমের তৃণমূল নেতা ভাদু শেখকে খুনের ঘটনার ৫ বছর বাদ অন্যতম অভিযুক্ত মাসাদ শেখ মুম্বাই থেকে গ্রেপ্তার করল সিবিআই। ধৃত মাসাদ শেখের বাড়ি বীরভূমের রামপুরহাট থানার বগটুই গ্রামে । রামপুরহাট আদালত তাকে ঘোষিত অপরাধী ঘোষণা করেছিল । কিন্তু সে অপরাধ সংঘটিত করার পরেই মুম্বাইয়ে আত্মগোপন করেছিল । শুক্রবার মুম্বইয়ের ডংরি থানার ওয়াদিবন্দরের টোবাকো গলি এলাকা থেকে সিবিআই তাকে পাকড়াও করে । ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে রাজ্যে এনে ১৫ আগষ্ট বর্ধমানের তৃতীয় জেলা ও দায়রা আদালতে পেশ করার কথা ছিল । কিন্তু,ওই দিনটি ছুটির দিন থাকায় তাকে দায়রা আদালতের পরিবর্তে বর্ধমানের সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়।সিজেএম ধৃত মাসাদ শেখকে বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে সোমবার তৃতীয় জেলা ও দায়রা আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
২০২২ সালের ২১ মার্চ বীরভূমের রামপুরহাটের বগটুই মোড়ে তৃণমূল নেতা তথা বড়শাল পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখকে বোমা ও গুলি চালিয়ে খুন করা হয়। এই হত্যার জেরে বগটুই গ্রামে ভয়াবহ হিংসা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যেখানে শিশু ও মহিলা সহ একাধিক মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় । কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই জোড়া মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই ।
তদন্তে নেমে সিবিআই ভাদু শেখ খুনের মামলায় পলাশ খান ওরফে ফইজল খান, সঞ্জু শেখ ওরফে নূর ইসলাম শেখ,সফি শেখ ও মাহী শেখের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ২০ জুন পরিকল্পনা করে খুন, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের ধারায় চার্জশিট পেশ করে। পরে ১৩ নভেম্বর সোনা শেখ, ছোট লালন শেখ ওরফে কামরুল শেখের বিরুদ্ধে প্রথম অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করে। ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নিউটন শেখ ওরফে আসামুল হক, মসাদ শেখ ও শেরা শেখের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করে সিবিআই।পরে দু’টি মামলাই হাইকোের্টর নির্দেশে রামপুরহাট আদালত থেকে বর্ধমান আদালতে স্থানান্তরিত হয়। ২০২৪ সালের ৬ জুন সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আদালত। মসাদকে ঘোষিত অপরাধী ঘোষণা করে আদালত।।
