এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১৬ আগস্ট : বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এক হিন্দু যুবককে ডেকে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে । হতভাগ্য যুবকের নাম শঙ্কর মন্ডল । তিনি ঢাকার ধামরাই পৌরসভার পশ্চিম কায়েত পাড়ার বাসিন্দা বদন চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে।
পরিবার ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট স্থানীয় “ওয়াজেদ হাজীর রাইস মিল”-এর মোটরের একটি যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটে । চুরিতে জড়িত থাকার সন্দেহে শঙ্করকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে যান তার বাবা বদন চন্দ্র মণ্ডল ও স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান। অভিযোগ, তাদের দুজনকে বাইরে পাঠিয়ে মিলের ভেতরে শঙ্করকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। চুরির কথা স্বীকার না করায় পরে তাকে ছেড়েও দেওয়া হয়। রাইস মিলের মালিক ওয়াজেদ হাজীর নেতৃত্বে শঙ্কর মণ্ডলকে মারধর করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
শঙ্করকে যখন ছাড়া হয় তখন তার অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, তিনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিলেন না। তাকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা পরিবারের পক্ষে করা আর সম্ভব হয়নি। আহত অবস্থাতেই বাড়িতে ছিলেন তিনি। সাত দিন পর শনিবার সেই বাড়িতেই নিভে গেল শঙ্করের জীবন।
শঙ্কর মন্ডলের বাবা বদন চন্দ্র মণ্ডল সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, “টাকা নাই বলে ছেলেকে ঢাকায় নিয়ে যেতে পারিনি। আজ আমার ছেলে মারা গেছে।”
তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন,একটি চুরির মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে অমানুষিক মারধর করা কি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সমর্থনযোগ্য? অভিযোগের সত্যতা বা তথ্য প্রমাণের প্রয়োজন নেই ? বিচার কি এভাবেই হতে পারে? অভিযোগ প্রমাণের আগেই কাউকে পিটিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া যায় ? আমরা সংখ্যালঘু বলে কি আমাদের জীবনের কোনো দাম নেই ?
