এইদিন ওয়েবডেস্ক,বীরভূম,০৭ আগস্ট : বীরভূম জেলার বিডিও জয়সূর্য চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তারই অফিসের এক তরুনী সহকর্মী । তরুনীর অভিযোগ, বিডিও তাকে কারনে অকারণে অফিসে ডেকে পাঠিয়ে লাগাতার কুপ্রস্তাব দিচ্ছিলেন ৷ তাতে রাজি না হওয়ায় অপহরণ করে ঝাড়খণ্ডের ফাইভ স্টার হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন । তরুনী জানান, বিষয়টি অফিসের এবং বিডিও তার থেকে বয়সে অনেক বড় হওয়ায় তিনি সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করে যান । কিন্তু সম্প্রতি তার অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেলে বাধ্য হয়ে তিনি দুবরাজপুর থানার দ্বারস্থ হন ।
কিন্তু দুবরাজপুর থানার পুলিশের বিরুদ্ধেও তরুনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে । অভিযোগ যে, পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে । তরুনীকে দুপুর ৩.৩০ থেকে তাকে রাত্রি ১২:৩০ পর্যন্ত ৯ ঘন্টা থানায় বসিয়ে রাখা হয়৷ শেষ পর্যন্ত বিষয়টি জানতে পেরে দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা, দুই মন্ডল সভাপতি দেবজ্যোতি সিং ও শম্ভুনাথ ব্যানার্জি থানায় গিয়ে তরুনীর পাশে দাঁড়ালে পুলিশ অভিযোগ নিতে বাধ্য হয় । শুধু থানাতেই নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী,রাজ্য পুলিশের ডিজি, বীরভূমের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং সিডিপিও সহ একাধিক দপ্তরে ইমেলে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী তরুণী । পাশাপাশি বিডিও-এর হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ও অনান্য তথ্যপ্রমাণও পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি ।
অভিযোগকারিনী বলেন,’আমি কর্মস্থলে যৌন হয়রানির শিকার । আমার অভিযোগ দুবরাজপুরের বিডিও জয়সূর্য চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ।’ তাঁর অভিযোগ, ‘প্রথম দিকে বিডিও আমাকে রোম্যান্টিক গান পাঠাতেন । আস্তে আস্তে সেটা বাড়ে । ওনার বউ নাকি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত । উনি শান্তি পাননা । তাই শান্তি পেতে সর্বহারা হয়ে আমার কাছে এসেছেন । আমার সাথে উনি কোনো ভালো রিসর্টে যেতে চান। সেটা যে-কোন জায়গায় হতে পারে । বারবার আমায় উনি বলেছেন,আমি যেন কোথাও এই বিষয়গুলি না জানাই এবং মুখ না খুলি ।’
তিনি বলেছেন,’এই ধরনের প্রস্তাবগুলো চরম পর্যায়ে যায় । আমার খুব ব্যক্তিগত প্রশ্ন আমায় করা হয়েছে । কাজের অজুহাতে বারবার চেম্বারে ডাকা,দেখা করতে বলা । সেখানে গিয়ে আমায় জিজ্ঞাসা করা হয় যে আমার বয়ফ্রেন্ড আছে কিনা । আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে আমার সেক্সচুয়্যাল সম্পর্ক কেমন । আমি আদও সেক্সচুয়ালি একক্টিভ কিনা । এই ধরনের নানা রকম প্রশ্ন করা হয় ।’
তিনি বলেছেন,’উনি বলতেন আমি যেটা চাই, আস্তে আস্তে সেটা আমার হয়ে যায় । তোমারও সবকিছু আস্তে আস্তে আমার হয়ে যাবে । আমি এই বিষয়ে ইনফ্লুইন্সিয়াল । আর জব, ট্রান্সর্ফার এগুলো চাইলে উনি সব করে দিতে পারেন৷ বারবার উনি এটাও বলেছেন যে আমি যেন কোথাও এই বিষয়ে মুখ না খুলি।’ তরুনী বলেন,’কর্মক্ষেত্র বলে প্রথম দিকে বিষয়টা আমি শান্তিপূর্ণ ভাবে মেটাতে চেয়েছিলাম । উনি আমার থেকে বয়সে যথেষ্ট বড়। তাই রেসপেক্টের জন্য এসব কিছুর জন্য খারাপ লাগার পরেও আমি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি । ওনার ইনফ্লুয়েসের ভয়ে বাধ্য হয়ে আমি ওনাকে উত্তর দিয়েছি । উনি আমায় ভিডিও কলও করেছেন । তবে হোয়াটসঅ্যাপে করতেন, যাতে কোনো প্রমান না থাকে । উনি বলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রীর পিএ-এর ভীষণ ক্লোজ, আমি সিএম-এর এলাকার লোক । ওর সাথে আমার ভালো যোগাযোগ আছে,আমি সবার খুব প্রিয়পাত্র । উনি চাইলে নাকি অনেক কিছু করতে পারেন । আমার ক্ষতি করার হুমকিও দেন ।’
তিনি বলেন,’ওনার এই ধরনের সেক্সচুয়াল অ্যাপ্রোচ এক্সট্রিম পর্যায়ে যায় । উনি আমায় বলেন যে, উনি চাইলে আমায় কিডন্যাপও করতে পারেন । এবং তুমি যখন চোখ খুলবে তখন দেখবে তুমি কোনো ফাইভ স্টার হোটেলের বেডে আছ এবং তোমার সাথে আমি ভালোবাসা করছি । এই ধরনের বহু কথা আমায় বলা হয়,যেগুলো আমি মুখে আনতে পারছি না । আমার বডি মেজারমেন্ট জিজ্ঞাসা করা হয়, যাতে উনি আমাকে কিছু ইন্টিমেট পোশাক উপহার দিতে পারেন । আমি যখন ওনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিই, তারপর থেকে ওনার স্ত্রী আমাকে নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকেন । বলা হয়, ওনার মামা নাকি আইএএস । সম্পূর্ণ বিষয়টি আমার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় ।’ তিনি জানিয়েছেন,গত এপ্রিল মাস থেকে এই ধরনের কথাবার্তা শুরু করেন বিডিও । বিজেপি বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা জানিয়েছেন, আইন আইনের পথে চলবে । যদিও অভিযোগ প্রসঙ্গে বিডিও-এর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া।।
