এইদিন ওয়েবডেস্ক,মঙ্গলকোট(পূর্ব বর্ধমান),০৩ আগস্ট : বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ ও বিধবা ভাতার টাকায় কোনো রকমে সংসার চালান পূর্ব জেলার মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া পঞ্চায়েতের আটঘরা গ্রামের বাসিন্দা ঝুমা দাস । তিন মাস ধরে বিধবা ভাতার টাকা পাননি তিনি । উদ্বিগ্ন ঝুমাদেবী আজ সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় পাশবই আপডেট করাতে গিয়েছিলেন । কিন্তু পাশবইয়ে বিশাল অঙ্কের টাকা দেখে ভীমড়ি খান তিনি । নিজে হিসাব করতে না পেরে আশপাশের লোকজনদের পাশবই দেখান । তখন ঝুমাদেবী জানতে পারে যে তার অ্যাকাউন্টে ৩২ কোটি ৯৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ১৯৭ টাকা ঢুকেছে । একথা শোনার পর থেকেই ভয়ে তটস্থ হয়ে আছেন ওই মহিলা । ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায় । ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ। পাশাপাশি ব্যাঙ্কের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় কোনও গলদ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ।
জানা গেছে,আটঘরা গ্রামের বাসিন্দা ঝুমা দাসের স্বামী মারা গিয়েছেন বহু বছর আগে। পরিবারের অন্ন সংস্থানের জন্য বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করেন তিনি । বিধবা ভাতা ও পরিচারিকার সামান্য আয়ই ভরসা। যেকারণে মাস তিনেক ধরে বিধবা ভাতার টাকা না পেয়ে বিপাকে পড়ে যান ঝুমাদেবী । বিধবা ভাতার টাকা ঢুকেছে কিনা জানতে আজ ব্যাঙ্কের শাখায় পাশবই আপডেট করতে গিয়েছিলেন । তখনই তিনি জানতে পারেন যে গত ৪ জুলাই তাঁর অ্যাকাউন্টে বিধবা ভাতা বাবদ ১ কোটি টাকা জমা পড়েছে। তার পরেই আরও ৩১ কোটি ৯৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ১৯৭ টাকা জমার এন্ট্রি রয়েছে। এরপর দুপুর নাগাদ বোনপোকে সঙ্গে নিয়ে ফের তিনি ব্যাঙ্কে গেলে কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি কম্পিউটারজনিত ত্রুটি। পরে ঝুমাদেবীর পাশবই পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। তবে ১ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত কোনও লেনদেনের তথ্য নতুন পাশবইয়ে ছিল না বলে অভিযোগ ।
সমগ্র ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ঝুমাদেবীর ভাই ভাই গৌতম দাস । তাঁর প্রশ্ন,’কিভাবে বিধবা ভাতার জায়গায় ১ কোটি টাকা দেওয়া হল ? এটা নিছক প্রযুক্তিগত ত্রুটি, না কি অন্য কোনও কারণ রয়েছে ?’ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি ।বঝুমাদেবী বলেন, ‘বিধবা ভাতা বাবদ আমার প্রাপ্য টাকা পেলেই আমি সন্তুষ্ট । এত টাকা আমার প্রাপ্য নয়। ভুল হয়ে থাকে, ব্যাঙ্ক সেই টাকা ফিরিয়ে নিক ।’ তিনিও এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন । এদিকে বিপুল অঙ্কের টাকা ঢোকার খবর চাওড় হতেই ভিড় জমে যায় ঝুমা দাসের বাড়িতে ।।
