এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তরপ্রদেশ,০২ আগস্ট : উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা জেলা থেকে একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। অযোধ্যার দর্শন নগরের রাজর্ষি দশরথ মেডিকেল কলেজে বোমা তৈরির বিষয়ে একটি সন্দেহজনক হাতে লেখা নোট আবিষ্কারের ঘটনায় পুরো কলেজ ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশ একজন এক্স-রে টেকনিশিয়ান ছাত্র সরফরাজ খানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।পুলিশ জানিয়েছে, নোটটি আবিষ্কারের পর থেকে তারা সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে। ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১লা আগস্ট), যখন কলেজের ভেতরে বোমা তৈরির পদ্ধতি সম্বলিত একটি কাগজ পাওয়া যায়।
তদন্ত শেষ হলেই এই পুরো মামলার প্রকৃত ও সম্পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত মোহাম্মদ সরফরাজ মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ল্যাব টেকনিশিয়ান বলে জানা গেছে। সরফরাজ চলতি বছরই মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে এবং সে মূলত বলরামপুর জেলার বাসিন্দা।
শুক্রবার রাতে (৩১ জুলাই) কলেজের টেকনিশিয়ান রুম বা ল্যাবে ডিউটিতে ছিল সরফরাজ । অভিযোগ উঠেছে যে, ডিউটিরত অবস্থায় তিনি একটি সাদা কাগজে নিজের হাতে বোমা তৈরির সমস্ত তথ্য লিখেছিলেন। ডিউটি শেষে তিনি নিজের রুমে গিয়ে চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়েন, কিন্তু চিরকুটটি ল্যাব বা রুমেই পড়ে ছিল। ইতিমধ্যে, কাগজটি অন্য এক কর্মচারীর হাতে পড়ে যায় এবং তিনি এর বিষয়বস্তু পড়েন। কাগজে লেখা বিপজ্জনক শব্দগুলো দেখে তার সহকর্মীরা সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠেন এবং দেরি না করে অবিলম্বে পুলিশকে ফোন করে খবর দেন।
রাজর্ষি দশরথ মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের এই প্যারামেডিকেল ছাত্রের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, চিরকুটটিতে বোমা তৈরির পদ্ধতি, এর আকার এবং এর তীব্রতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিবরণ ছিল। চিরকুটটির বিষয়ে জানতে পেরে কলেজ প্রশাসন অবিলম্বে সতর্ক হয়ে ওঠে এবং পুলিশকে খবর দেয়। অযোধ্যা থানার সার্কেল অফিসার আশুতোষ তিওয়ারি জানিয়েছেন যে, বিষয়টি সব দিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলেই মামলার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে। পুলিশ বর্তমানে ছাত্রটির চিরকুট লেখার মূল উদ্দেশ্য এবং এটি কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত কিনা তা নির্ধারণ করার চেষ্টা করছে।
তথ্য পাওয়ার পর কোতোয়ালি অযোধ্যা থানা পুলিশ অবিলম্বে মেডিকেল কলেজে পৌঁছে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। পুলিশ সংশ্লিষ্ট হাতে লেখা নথিপত্রের পাশাপাশি মহম্মদ সরফরাজ খানের ল্যাপটপ, ফোন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি থানায় নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ছাত্রটির ল্যাপটপ, ফোন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেছে। মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত নিশ্চিত করতে তারা কলেজের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তারা অন্যান্য তদন্তকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার সাহায্য নেবেন।।
