এইদিন স্পোর্টস নিউজ,০১ আগস্ট : স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসের ভারতীয় জুডোকা অস্মিতা দে স্বর্ণপদক জিতেছেন।মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে তিনি কানাডার হেইডি কোয়াচকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।ত্রিপুরার বেলোনিয়ার বাসিন্দা অস্মিতার বাবা পেশায় সাইকেল মিস্ত্রি ছিলেন । কিন্তু কয়েক মাস আগে তিনি সেরিব্রাল স্ট্রোকে মারা গেছে । বাবাকে স্মরণ করে বিশ্ব মঞ্চে দাঁড়িয়েও ২৩ বছরের তরুনী অস্মিতার চোখ থেকে জল ঝড়ে পড়তে দেখা গেলো । অস্মিতা বলেন,’বাবা এটা দেখে যেতে পারলেন না, তবে কমনওয়েলথ গেমসের এই স্বর্ণপদকটি আমি তাঁরই জন্য উৎসর্গ করছি । সাত মাস আগে ব্রেন স্ট্রোকে তিনি মারা যান।’ অস্মিতা বলেন,’বাবা একজন সাইকেল মিস্ত্রি ছিলেন, যিনি দিনে বড়জোর ৩০০ টাকা আয় করতেন। ত্রিপুরার এক ছোট গ্রামে মাটির বাড়িতে তিনি আমাদের সংসার চালিয়েছেন। তিনি সবসময় আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন। হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য তিনিই আমাকে দিল্লি নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আমার সেবা-শুশ্রূষা করেছেন এবং সব কাজে সাহায্য করেছেন। তিনি আমাকে ভীষণভাবে সমর্থন করেছেন।’
সাইকেল মিস্ত্রির মেয়ে থেকে কমনওয়েলথ গেমস চ্যাম্পিয়ন হওয়া,অস্মিতা দে-র এই যাত্রাপথ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।ত্রিপুরার বেলোনিয়ায় জন্ম নেওয়া অস্মিতা আর্থিক প্রতিকূলতা জয় করে অ্যাথলেটিক্স ছেড়ে জুডোতে মনোনিবেশ করেন। ভোপালের ‘সাই এনসিওই’ (SAI NCOE)-তে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি এশিয়ান ওপেন, জুনিয়র এশিয়া কাপ এবং কমনওয়েলথ জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে পদক জয়ের মাধ্যমে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসেন।আজ তিনি স্বর্ণপদক জয়ী হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসের বিজয়মঞ্চের শীর্ষে দাঁড়িয়ে আছেন। অস্মিতার কথায়,’আমি যেখান থেকে এসেছি, সেখানকার মানুষ সাধারণত বিশ্বমঞ্চে পৌঁছনোর মত এত বড় স্বপ্ন দেখে না ।’
ত্রিপুরায় তাঁর মা মুন্না পটারি দে বলেন,’আমি অস্মিতার মা। আজ আমি খুব খুশি যে আমার মেয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে একটি পদক জিতেছে। আমি তার জন্য অত্যন্ত গর্বিত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্য সবাই তার এই সাফল্যে খুব খুশি। ত্রিপুরার মানুষ এবং সমগ্র দেশ এই গর্বের মুহূর্তটি উদযাপন করছে। অস্মিতার বাবা আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তাহলে তাঁর মেয়ের সাফল্যে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত হতেন।’।

