এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাঠকান্ডু,২৯ জুলাই : নেপালে ফের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে । গত ২৬ জুলাই রাত্রি প্রায় ১০ টা নাগাদ নেপালের কাপতানগঞ্জের দেওয়ানগঞ্জ জেলার সুনহারিতে সুনসারিতে ‘বোল বাম’ নামক একটি হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনার পর সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে । বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সময় স্থানীয় প্রশাসন গুলি চালালে ওম প্রকাশ মেহতা নামে ২৪ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হন এবং ২৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। এই ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে; সমালোচকরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা এই হিংসার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
ঘটনার পর দেওয়ানগঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সেনাবাহিনী । জারি করা হয় কার্ফু৷ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিহত হিন্দু যুবক ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আজ বুধবার রাজধানী কাঠকান্ডুতে বিক্ষোভ দেখায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন । এদিকে নেপালের বৌদ্ধ ধর্মালম্বী প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ।
বালেন শাহ একটি লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, নমস্কার । আমি জানি যে হৃদয়বিদারক ঘটনা কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়। কিন্তু সুনসারিতে ঘটা একটি সাধারণ ঘটনার প্রেক্ষিতে, হৃদয়কে ব্যথিত করে এমন কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ক্ষোভের জেরে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সমাজ আজ বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং মানুষ একে অপরের মুখোমুখি হতেও শঙ্কিত বোধ করছে। মানবিকতাবোধসম্পন্ন কোনো মানুষই এমন পরিস্থিতি কাম্য করেন না। অথচ পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠেছে।
শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নয়, বরং এ দেশের একজন নাগরিক হিসেবেও সুনসারির ঘটনায় আমি গভীরভাবে ব্যথিত। আমি নিহতের প্রতি আমার আন্তরিক শোক প্রকাশ করছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। এই ঘটনায় যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাঁদের সেই বেদনা আমি অনুভব করছি। সরকার যত দ্রুত সম্ভব ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবে। আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমরা এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সরকার জরুরি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছি । ঘটনার শুরু থেকেই সরকারের উপস্থিতি ছিল, তবে তা যথেষ্ট ছিল না। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নাগরিকদের প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা এ ধরনের ক্ষতি কোনোভাবেই স্বাভাবিক বিষয় নয়। আমি আপনাদের জানাতে চাই যে, এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এটি মোটেও কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। আমি আপনাদের জানাতে চাই যে, এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সরকার আপনাদের এই নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে, দেশে একটি সরকার আছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার প্রতিটি ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সরকার যেসব কঠোর ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা আপনারা নিশ্চয়ই অনুভব করতে পারবেন।
নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফলাফল নিশ্চিত করতে সরকার তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। এই সময়টুকুতে সবার উচিত উত্তেজনা, ক্ষোভ ও প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব সংবরণ করা। ধর্মও আমাদের এই শিক্ষাই দেয়।
তিনি লিখেছেন,মানুষের প্রধান ধর্ম হলো মানুষকে রক্ষা করা। আর সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। সরকার অতি দ্রুত এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আমি আপনাদের আবারও অনুরোধ করছি—মনে কোনো ক্ষোভ, অসন্তোষ বা ভীতি থাকলে তা দূর করুন। এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না যা উসকানি দেয় বা উত্তেজনা সৃষ্টি করে। আসুন আমরা নিরাপদ ও সংযত থাকি। একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা বজায় রাখি এবং সামাজিক সম্প্রীতি অটুট রাখি।’।

