এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২০ জুলাই : ১৯৯৩-র ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযানের সময় যুব কংগ্রেস সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের গুলিতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। ক্ষমতায় আসার পরে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করে তৃণমূল সরকার। কিন্তু মূল অভিযুক্তকে বাঁচানোর জন্য স্বাক্ষীর তালিকায় রাখেননি মমতা ব্যানার্জি । আর ২১ জুলাই নরসংহার তার নির্দেশেই হয়েছিল । আজ সোমবার বিধানসভায় কমিশনের রিপোর্ট সামনে এনে এমনই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।
এদিন, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জির উদ্দেশ্যে বলেন,’২১ জুলাইকে ব্যবহার করে অনেকে অনেক কিছু করে নিয়েছেন। বিধায়ক হয়েছে সাংসদ হয়েছে । মন্ত্রী হয়েছে । মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে । চ্যাটার্ড ফ্লাইটে চাপলো । হেলিকপ্টারে আকাশে থাকলো । বাড়ি- গাড়ি-সম্পত্তি করল । দুবাই গেল । সিঙ্গাপুর গেল । আমেরিকার হপ কন্সে চোখের চিকিৎসা করালো ।হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ৩৮ টা প্লটের মালিক হল। অসংখ্য প্রাসাদের মত বাড়ি তৈরি করা । অনেক কিছু করে নিয়েছেন৷’ তিনি হতাহতের পরিবারের উদ্দেশ্যে বলেন,’এদের থেকে আপনারা দূরে থাকবেন ।’
সিপিএমের জমানায় ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযান হয়। সেই অভিযান আটকাতে গুলি চালায় পুলিশ। ১৩ জন যুব কংগ্রেস নেতার মৃত্যুতে অভিযোগ ওঠে তৎকালীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে। এরপর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠিত হয়। ডাক পড়ে প্রাক্তন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যেসহ অনেকের । এরপর রাজ্যে পালাবদল হয় । ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। তারপর থেকে তারা শহিদদের স্মৃতি স্মরণে পালন করে একুশে জুলাই।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বিধানসভা চলায় আমি সেই রিপোর্ট এখানে পেশ করব। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, এন কৃষ্ণমূর্তি, মণীশ গুপ্ত, তুষারকান্তি তালুকদার। কানওয়ালজিৎ সিং, রাজকোমল জুহুরি, দীনেশ বাজপেয়ী, বিমান বসু, প্রদীপ ভট্টাচার্য, মঞ্জুকুমার মজুমদার, কিরণময় নন্দ। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, সৌগত রায়’। সব মিলিয়ে ৪৪জনকে কমিশন ডেকেছিল। সবচেয়ে বড় সাক্ষী বলে যিনি দাবি করেন, তাকেই ডাকেনি কমিশন ।’
তিনি বলেন, ‘হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই দিয়েছিলেন, ডাকবেন না। পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় সাক্ষী দিতে রাজি হননি, জানিয়ে দিয়েছিলেন। ২১ জুলাইয়ে অভিযুক্ত ছিলেন মণীশ গুপ্ত, কিন্তু তাঁকেই মন্ত্রী করা হয়েছিল। তাই স্বভাবতই ওনার নাম আর প্রকাশ করা হয়নি। আইন অনুযায়ী তদন্ত হয়েছিল বলে কমিশন মনে করে না। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট, অন্য রিপোর্টের রিপোর্ট অনুপস্থিত ছিল। পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর যথার্থতা প্রমাণিত হয় না। কার নির্দেশে পুলিশ গুলি চালিয়েছিল, তাও জানা যায়নি। মহাকরণ ও লালবাজার থেকে কেন নথি পাওয়া যায়নি, তারও জবাব মেলেনি। বিদ্যুৎমন্ত্রী ফেঁসে যেতে পারেন, তাই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথ্য দেননি। কমিশন মনে করেছে, মহাকরণ থেকে বহু দূরে গুলি চালানোর দরকার ছিল না।’।
