এইদিন ওয়েবডেস্ক,চট্টগ্রাম,০৫ জুলাই : মলত্যাগের সময় রক্তপাত হচ্ছিল ৮ বছরের শিশুর৷ পরিবারের লোকজন অর্শ ভেবে তাকে চিকিৎসকের নিয়ে যায় । কিন্তু সেখানে গিয়ে ভয়াবহ এক সত্য সামনে আসে ৷ শিশুটি জানায় যে মাদ্রাসার এক সমকামী শিক্ষক ও ৩ ছাত্র মিলে দিনের পর দিন তার পায়ূ সঙ্গম করেছে । বাংলাদেশের চট্টগ্রামের পটিয়ার একটি মাদ্রাসায় এই ঘটনাটি ঘটেছে । শনিবার (৪ জুলাই) আজিজ উল্লাহ (২০) নামে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ যে ধৃত শিক্ষক প্রথমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ।
বাংলাদেশের ডিআরবি ডট নিউজের অনলাইন এডিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ঈশ্বরখাইন চৌধুরীপাড়া আজিজিয়া নজিরিয়া তাহফিজুল কোরান মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল । মলত্যাগের সময় তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল । প্রথমে পরিবারের সদস্যরা এটি পাইলস বা অর্শজনিত সমস্যা বলে মনে করেন। পরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে পরীক্ষা- নিরীক্ষার পর চিকিৎসক এটি পাইলস নয় বলে জানান এবং শিশুটির সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এরপর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে মাদ্রাসার শিক্ষক আজিজ উল্লাহর দ্বারা ধর্ষিত এবং একই কাজে মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থী সহযোগিতা করেছেন বলে জানান। একইসঙ্গে গত প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে ওই চারজন মিলে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিল বলে উল্লেখ করে শিশুটি।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার প্রথমে মামলা করতে আসে। পরে মাদ্রাসার শিক্ষকেরা তাদের অনুরোধ জানান, যাতে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। তারা অভিভাবকদের বোঝান যে মামলা হলে মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্তদের মধ্যে আজিজ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের থানায় হাজির হওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। পরে আজিজ উল্লাহকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি জানিয়ে আরও বলেন, মামলা করা হলে এ ঘটনায় তাকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।।
