এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,০৫ জুলাই : ২০২৬-এর বিধানসভার ভোটের পরেও চাঁচলে কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব অব্যাহত, জেলা সভাপতির উপস্থিতিতেই প্রাক্তন বিধায়ক এবং বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর মধ্যে দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে । সংঘর্ষে এক কংগ্রেস কর্মীর নাক ফেটে রক্তারক্তি হয় । নেতাকর্মীর মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে আসরে নামতে হয় খোদ জেলা কংগ্রেস সভাপতি ও সাংসদ ইশা খান চৌধুরী ও মৌসুম বেনজির নুরকে । ইশা খান চৌধুরীর বক্তব্য, কংগ্রেস একটি গণতান্ত্রিক দল। এই দলে সকলের মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে মতামত প্রকাশ করতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে। কেউ দলকে ব্ল্যাকমেল এবং গা-জোয়ারি করে কিছু আদায় করতে চাইলে তা কখনই মেনে নেওয়া হবেনা।
চাঁচল-১ ব্লকের তরলতলায় অবস্থিত কংগ্রেস কার্যালয়ের দখল ঘিরে চাঁচল-১নং ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আঞ্জারুল হক ওরফে জনি ও চাঁচল বিধানসভায় প্রাক্তন বিধায়ক আসিফ মেহেবুবের গোষ্ঠীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল ।মূলত চাঁচলের কংগ্রেস প্রার্থী কে হবেন তা নিয়েই বিবাদের সূত্রপাত । ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এনিয়ে একপ্রস্ত ঝামেলাও বাধে । যদিও শেষ পর্যন্ত দলীয় নির্দেশে চাঁচল বিধানসভায় কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন প্রাক্তন বিধায়ক আসিফ মেহেবুব। আর এই ঘটনায় চাঁচল-১নং ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আঞ্জারুল হক ওরফে জনি কংগ্রেস দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে নির্দল প্রতীকে ভোটে লড়াই করেন। এরপর শনিবার চাঁচল-১ ব্লক কংগ্রেস কার্যালয়ের দখল ঘিরে সেই দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারন করে ।
জানা গেছে,শনিবার জেলা সভাপতি সহ নেতৃত্বের সামনে দলীয় কার্যালয় দখল নিয়ে কংগ্রেসের দুই বিবদমান গোষ্ঠীর মধ্যে মধ্যে বাকবিতন্ডা থেকে হাতাহাতি শুরু হয় । ক্রমে তুমুল সংঘর্ষের আকার নেয় । দুই পক্ষের কংগ্রেস কর্মীরা একে-অপরের উপর চড়াও এলোপাথাড়ি কিল-চড়-ঘুষি মারতে শুরু করে । এক কংগ্রেস কর্মীর নাক ঘুষি মেরে ফাটিয়ে দেওয়া হয় । তার নাক ফেটে রক্ত ঝড়তে থাকে । পরে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় বিবদমান দুই গোষ্ঠীর নেতৃত্ব একে- অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ আনেন।।
