পারমিতা দত্ত,কালনা(পূর্ব বর্ধমান),০১ এপ্রিল : ক্লাবের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ‘আদি বিজেপি’ ও ‘নব্য বিজেপি’র মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার মুক্তারপুর এলাকায় । সংঘর্ষে ৪ জন ‘আদি বিজেপি’ কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে । তাদের কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । এদিকে এই ঘটনার পর ‘আদি’ ও ‘নব্য’ বিজেপি নিয়ে দলের অভ্যন্তরেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কালনা ১ নম্বর ব্লকের মুক্তারপুর উত্তরপাড়ায় ‘নবজীবন’ নামে একটি পুরনো ক্লাব রয়েছে । যেটি তৃণমূলের জমানায় তাদের দ্বারাই পরিচালিত হত । বিজেপির শক্তিকেন্দ্রের প্রমুখ বাপ্পা বাড়ুইয়ের অভিযোগ,’এতদিন ওই ক্লাবঘর তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনী মদ,জুয়া,সাট্টা প্রভৃতি অসামাজিক কাজে ব্যবহার করত । রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আমরা ক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দিই । কিন্তু তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনী আবার তালা ভেঙে তাদের অপকর্ম শুরু করে । আমরাও ফের তালা ঝুলিয়ে দিই । আমরা জানিয়ে দিই যে উভয়পক্ষের আলোচনার পর তালা খোলা হবে । সেজন্য আমার উপর একবার প্রাণঘাতী হামলাও হয় । দলের আরও কয়েকজন থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই ।’ তিনি হামলাকারীদের “তৃণমূলের হার্মাদবাহিনী” বলে দাবি করেছেন বলেছেন,আজ সকালে তারা ফের মুক্তারপুর উত্তরপাড়ায় চড়াও হয় ।
স্থানীয় সূত্রে খবর,ওই ক্লাবের নামকরণ নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল । ‘আদি বিজেপি’র ক্লাব সদস্যরা পুরনো নাম রেখে দেওয়ার পক্ষে৷ কিন্তু ‘নব্য বিজেপি’ নাম পরিবর্তন করে ‘ডায়মন্ড ক্লাব’ করার দাবি তোলেন ।এনিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই দু’পক্ষের মধ্যে অশান্তি চলছিল। আজ সকালে ফের এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা শুরু হয়। বচসা থেকে ক্রমশ হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয় । সংঘর্ষে ‘আদি বিজেপি’র চারজন আহত হন। অপর পক্ষেরও কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে বিজেপি নেতা ধনঞ্জয় হালদার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশকে খবর দেন । পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এবং আহতদের উদ্ধার করে কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা ।
ধনঞ্জয় হালদারের অভিযোগ,’৪ তারিখের পর হঠাৎ করে তৃণমূল থেকে আসা কিছু দুষ্কৃতী বিজেপির নাম ব্যবহার করে ক্লাব ও পার্টি অফিসের দখল নেওয়ার চেষ্টা করলে ঝামেলার সূত্রপাত ।’ অন্যদিকে বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন,’ধনঞ্জয় হালদার মিথ্যা কথা বলছেন । পুলিশ যাদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারাই আসল দুষ্কৃতী ।’ সেই সাথে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, ‘ঘটনার পর পুলিশ যাদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরেছে তারা আদপে বিজেপি না তৃণমূল সেনিয়েই প্রশ্ন উঠছে । যারা পুলিশকে নিয়ে গেছে তারাই পুলিশের সামনে বিজেপির বাড়ির লোকজনদের উপর অত্যাচার করেছে । এখানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ।’
আজ মুক্তারপুর উত্তরপাড়ার এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায় । এখন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব কিভাবে ‘আদি বিজেপি’ ও ‘নব্য বিজেপি’-দের চিহ্নিত করে এবং কি পদক্ষেপ নেয় সেদিকেই তাকিয়ে এলাকার মানুষ ।।
