এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,৩০ জুন : পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সেদেশের সেনা যত দমনপীড়ন শুরু করেছে ততই সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগঠিত হচ্ছে । গত ৯ জুন থেকে নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) কাছে রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে বিক্ষোভ চলছে। আজ মঙ্গলবার শত শত মানুষ জড়ো হয়ে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছে । ওই বিক্ষোভে আওয়াজ ওঠে “কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ নয়” । বিরোধী দলনেতা মাহমুদ খান আচাকজাই বলেছেন,’পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ খাদ্য সরবরাহ আটকে রাখে, তবে জেনে রাখুন পিওজেকে -র বাকি সীমান্তগুলো খুলে দেওয়া হতে পারে। যদি এমনটা হয়, তবে ইসলামাবাদকে পিওজেকে-র জনগণের কাছে থেকে যাওয়ার জন্য ভিক্ষা চাইতে হবে। পিওকে-র(পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর) মানুষ ভারতে যুক্ত হয়ে যাবে ।’
রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দান থেকে ভেসে আসা কণ্ঠস্বর ইসলামাবাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের হাজার হাজার মানুষ পাকিস্তানি সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন এবং নিজেদের অধিকার দাবি করছেন।পাকিস্তান-বিরোধী বিক্ষোভে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমশ বাড়ছে । পাকিস্তান-অধিকৃত পাহাড়ি অঞ্চলের নারীরা প্রকাশ্যে বিক্ষোভ ও আন্দোলনের ডাকে অংশ নিচ্ছেন । আওয়াজ উঠছে : “পাকিস্তান- অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর পাকিস্তান থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে” ।
এদিকে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসি, জাতীয় পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা মাহমুদ খান আচাকজাই, সিনেটের বিরোধী দলনেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে যাওয়ার চেষ্টার সময় কাহুতায় ইসলামাবাদ পুলিশের হাতে আটক হন বলে জানা গেছে। প্রতিনিধিদলটির চলাচলের ওপর এই কথিত বিধিনিষেধ স্বচ্ছতা, ওই অঞ্চলে প্রবেশাধিকার এবং রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করার ক্ষমতা নিয়ে আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।।
