এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২০ জুন : ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে রক্তপাত অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ)-এর তথ্যমতে, ইসরায়েল আজ শনিবার ভোররাতে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ১২টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নাবাতিয়েহ অঞ্চল ও তার আশপাশের এলাকা গুলোই মূলত নিশানা করা হয়েছে ।এছাড়াও ইসরায়েল নাবাতিয়েহ শহর ও তার উপকণ্ঠে কামান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
আরব সেলিম শহরে বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে দেইর জাহরানিতে একজন নিহত হয়েছেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এছাড়া দুয়েইর শহরের প্রবেশপথে ব্যক্তিকে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও একজন বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে ।
শুক্রবার, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতও বলেছিলেন যে, হিজবুল্লাহ যদি যুদ্ধবিরতিকে সম্মান করে, তবে ইসরায়েলও তা মেনে চলবে। তবে, আগের যুদ্ধবিরতিগুলোর মতো এবারও হামলা বন্ধ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।এর আগে শুক্রবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক তথ্য প্রকাশ করে জানায়, দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও বোমা হামলায় ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।
বলা হচ্ছিল, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় হামলা ।এরপর একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার লড়াইয়ের অবসান ঘটার কথা ছিল। তবে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ১৫০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে এবং এতে ‘বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী’ নিকেশ হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর হামলায় তাদের চারজন সৈন্য শহীদ হয়েছেন ।
এদিকে, লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন।যুক্তরাষ্ট্রের চাপে লেবানন ও ইসরায়েল এপ্রিল মাস থেকে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে আসছে এবং মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, “যতদিন প্রয়োজন হবে, আমাদের বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করবে।”
মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর রকেট হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও এই চলমান হিংসা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির পথে ফের প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।।

