এইদিন ওয়েবডেস্ক,আসাম,১৫ জুন : পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায় অবৈধ বাংলাদেশিদের সমস্যাটি আবারও সামনে এসেছে। দেশে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও, বাংলাদেশ তার নিজের নাগরিকদের দেশে প্রবেশ করতে দিতে নারাজ। এই কারনে আসামের মানকাচর এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে । বিজিবি ঢুকতে না দেওয়ায় নয়জন বাংলাদেশী নাগরিক ‘নো-ম্যান’স ল্যান্ড’-এ আটকা পড়েছেন।
সূত্রমতে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিজেদের নাগরিকদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) ও বিজিবি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেই বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি বলে সূত্র জানায়। এ প্রসঙ্গে আজ আরও এক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে বিএসএফ সূত্র জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাদের মধ্যে একজন স্বীকার করেছেন যে, তারা বাংলাদেশি নাগরিক এবং কাজের জন্য ভারতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা যে বাংলাদেশি, তার প্রমাণপত্র আমাদের কাছে আছে। ওরা আমাদের মেরে নদীতে ফেলে দিলেও আমরা ভারতে যাব না।”
আরও বেশ কয়েকটি ভিডিওতে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় কাঁদতে দেখা যায়। সম্প্রতি, বিএসএফ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিককে প্রতিহত করেছিল যারা অবৈধভাবে ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। গত এক সপ্তাহে আসাম পুলিশ ও বিএসএফ একসঙ্গে ২১ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে।
অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে আসাম পুলিশ ও বিএসএফের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।রবিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষা, নিরাপত্তা জোরদার করা। আসাম পুলিশ ও বিএসএফ-এর যৌথ অভিযানে ২১ জন অনুপ্রবেশকারীকে দ্রুত শনাক্ত করে ভারতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমাদের বহুমুখী সীমান্ত সুরক্ষা কৌশল অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ থেকে আসামকে মুক্ত রাখা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সীমান্ত আরও সুরক্ষিত করার প্রয়োজন রয়েছে।”
