এইদিন ওয়েবডেস্ক,বিহার,১৪ জুন : বিহারের দারভাঙ্গা জেলায় একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যেখানে এক ইয়ামাহা শোরুমের ম্যানেজারকে তার অফিসের ভেতরে নৃশংস ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে । নিহত ব্যক্তি, মোহাম্মদ ফয়েজ আহমেদ, শুক্রবার সন্ধ্যায় অশোক পেপার মিল (এপিএম) থানা এলাকার শোরুমের ভেতরে খুন হন । সেই হাড়হিম করা খুনের সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে । পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মামলার সমাধান করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত,যে শোরুমের একজন প্রাক্তন কর্মচারী, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, শোরুমের ভেতর থেকে একটি উদ্বেগজনক সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি সামনে আসে, যেখানে দেখা যায় ম্যানেজারকে একটি ভারী মোটরবাইকের শক অ্যাবজর্বার এবং অন্যান্য বস্তু দিয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত, সোনু পাসওয়ান, হামলার প্রায় এক ঘণ্টা আগে শোরুমে প্রবেশ করে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।এসডিপিও রাজীব কুমার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন,’সে আগে এই একই শোরুমে কর্মরত ছিল এবং তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। মনে হচ্ছে, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই এই হামলা হয়েছে।’
তদন্তকারীরা প্রকাশ করেছেন যে, অভিযোগের ভিত্তিতে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে অভিযুক্তের ম্যানেজারের প্রতি বিদ্বেষ ছিল। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, দুজনের মধ্যে আর্থিক বিরোধও ছিল।কর্মকর্তাটি বলেন,’ম্যানেজার যখন একা ছিলেন, তখন অভিযুক্ত মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত একটি ভারী শক অ্যাবজরবার দিয়ে তাকে আক্রমণ করে । আক্রমণটি এতটাই মারাত্মক ছিল যে, মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে ফয়েজ আহমেদ ঘটনাস্থলেই মারা যান।”
সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার পর পুলিশ গভীর রাতে অভিযান চালায়। সোনু পাসওয়ানকে তার বাসভবনের কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সন্দেহভাজন অস্ত্র, একটি স্কুটার ও শোরুম থেকে নেওয়া অন্যান্য জিনিসপত্রসহ বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন,
:জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত অপরাধ স্বীকার করেছে ।’ অভিযুক্তকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে যে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
ফয়েজ আহমেদ, যার বয়স আনুমানিক ৩০-৩৫ বছর বলে জানা গেছে, ভারতে ফিরে ইয়ামাহা ডিলারশিপে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব নেওয়ার আগে সৌদি আরবে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন। তার বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী ও এক অল্পবয়সী কন্যা । তার পরিবার জানিয়েছে, তিনি একজন শান্তশিষ্ট মানুষ ছিলেন এবং তার কারোর সাথে কোনো বিরোধ ছিল না।অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে এক আত্মীয় বলেন,’আমার ভাই নামাজ সেরে ফেরার পরপরই আচমক্স তার ওপর হামলা করা হয়।’
এই ঘটনার পর দারভাঙ্গার লাহেরিয়াসরাই ও তার আশেপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা নিহতের মৃতদেহ নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে অভিযুক্তের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচার চাই। প্রশাসন জনগণকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’
সিটি এসপি এবং ফরেনসিক দল (এফএসএল) সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত শত্রুতা ও কর্মক্ষেত্রের সংঘাতসহ একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে এবং জানিয়েছে যে আরও তদন্ত চলছে।।
