এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১২ জুন : ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর শারদোৎসবে বাংলাদেশের কুমিল্লার নানুয়া দীঘিরপাড় পূজামণ্ডপে প্রতিমার পায়ের কাছে কোরান রাখার ঘটনা ঘটে ।সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা হয়েছিল৷ বহু হিন্দুর প্রাণহানী হয় । ধর্ষিতা বা গনধর্ষিতা হন বহু হিন্দু নারী৷তার পাঁচ বছর পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি উঠেছে যে, এই সাম্প্রদায়িক হিংসার মূল পরিকল্পনাকারী কুমিল্লা-৬ আসনের প্রাক্তন এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার কলকাতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।
হিন্দুত্ববাদী লেখক তথাগত রায় এক্স-এ লিখেছেন, “পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশের কুমিল্লায় একটি দুর্গাপূজার প্যান্ডেলের নিচে দুর্গা প্রতিমার পায়ের তলায় কোরান রেখে হিন্দুদের বিরুদ্ধে একটি ভয়াবহ ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।এর ফলস্বরূপ ভয়াবহ হিংসার ঘটে: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৫০০-র বেশি হিন্দুর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ২৩ জনেরও বেশি হিন্দুকে হত্যা করা হয়।পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। এতে দেখা যায়, একজন মুসলিম যুবক ব্যক্তিগতভাবে কোরানটি প্যান্ডেলে নিয়ে যাচ্ছে । ফুটেজ থেকে প্রকাশ পায় যে, প্রকৃতপক্ষে এই যুবকই সেখানে কোরানটি রেখেছিল ।সেই সময় শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই যুবক জানান যে, বাহারউদ্দিন তাকে ৫০,০০০ (মুদ্রার পরিমাণ অনির্দিষ্ট) টাকার বিনিময়ে কোরানটি রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পর বাংলাদেশ পুলিশ বাহারউদ্দিনের সন্ধান শুরু করে। কিন্তু তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দুই দিন আগে, ভারতের কলকাতায় কেউ একজন বাহারউদ্দিনকে দেখেছেন বলে খবর পাওয়া যায় এবং অনলাইনে প্রচারিত তার একটি ভিডিও এই খবরটিকে নিশ্চিত করে। আজ সকালে কলকাতা পুলিশ অভিযুক্ত সন্ত্রাসী বাহারউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে। জানা গেছে, তার স্ত্রী, ছেলে, বাবা-মা এবং পরিবারের আরও পাঁচজন সদস্যসহ মোট আটজন কলকাতায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিলেন। তাদের কাছে আধার কার্ড এবং রেশন কার্ডসহ বিভিন্ন ভারতীয় নথি পাওয়া গেছে, যা থেকে বোঝা যায় যে সরকারি কাগজপত্র ভারতেই সংগ্রহ করা হয়েছিল।’
প্রসঙ্গত,কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরান রাখা ব্যক্তির নাম ইকবাল হোসেন। তার বাড়ি কুমিল্লা শহরের সুজানগর এলাকায় । সে বাহারউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ । সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে হিন্দু নরসংহারের পর ২০২৫ সালে বাহাউদ্দিন বাহার ও তার মেয়ে তাহসিন বাহার সূচনা কলকাতায় পালিয়ে আসে । তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সাংসদের সসহযোগিতায় তারা রাজারহাট নিউটাউনের একটি বিলাশবহুল আবাসনে তারা বহাল তবিয়তে বসবাস করছে বলে এবার বাংলা ও ওপার বাংলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাবে প্রচার করা হয় । দাবি ওঠে যে বাহাউদ্দিন বাহার ও তার মেয়েকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিতে হবে । ওই বছর আগস্ট মাসে বাহাউদ্দিন ও তার মেয়েকে কলকাতা পুলিশ আটক করে । কিন্তু একরাত রাখার পর কোনো এক অজানা কারনে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় ।
শোনা যায় যে মাহবুবুল আলম হানিফ এবং শেখ হাসিনার অনুরোধ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির হস্তক্ষেপেই ছাড়া পেয়ে যায় “হিন্দুদের কসাই” বলে পরিচিত বাহাউদ্দিন ও তার মেয়ে । শুধু বাহাউদ্দিন হিন্দু বা ভারত বিদ্বেষী নয়,তার মেয়ে তাহসিন বাহার সূচনাও চরম হিন্দু ও ভারত বিদ্বেষী । দেশে থাকতে দুই বাপ বেটি মিলে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারও চালায় । এহেন চরম সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ায় মমতা ব্যানার্জির মানসিক ও উদ্দেশ্য নিয়ে বহু প্রশ্ন ওঠে৷
বাংলাদেশ পুলিশ বাহারউদ্দিনের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে, কিন্তু সে সময় তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। কিন্তু দিন দুয়েক আগে ভারতের তার বর্ণনার সাথে মিলে যাওয়া একজনকে নিয়ে অনলাইন ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে মামলাটি আবার সামনে আসে। আজ সকালে কলকাতা পুলিশ বাহারউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাহারউদ্দিন তার স্ত্রী, ছেলে, বাবা-মা এবং পরিবারের আরও পাঁচজন সদস্যসহ মোট আটজনের সঙ্গে কলকাতায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিল । জানা গেছে, পরিবারটির কাছে রেশন কার্ড ও পরিচয়পত্রসহ ভারতের সরকারি কাগজপত্র পাওয়া গেছে, যেগুলি মমতা ব্যানার্জির আমলেই বানানো হয় । যা থেকে বোঝা যায় যে তারা ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে ।।
