এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০৯ জুন : জিহাদের উসকে দিয়ে বাংলাদেশের শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের হিন্দু প্রধান শিক্ষককে খুনের চেষ্টা করল সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন । হামলার মুহুর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। রবিবার দুপুরে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকার অটোয় চড়ে স্কুলের ফটকে আসতেই জিহাদিরা তাকে অটো থেকে নামিয়ে নির্মমভাবে কিল,চড়,ঘুঁষি,লাথি মারতে শুরু করে । ওই অটোরিকশায় করেই সুজিৎ কর্মকার প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় তিনি চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন । আশপাশের কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাটির ভিডিও রেকর্ড করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, ২০১৩ সালে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পান সুরজিৎ কর্মকার৷ তারপর থেকেই সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন তাকে সরিয়ে প্রধান শিক্ষক হওয়ার ষড়যন্ত্র করছিল । বছর দুই আগে সুরজিৎবাবুর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হেনস্তার মিথ্যা অভিযোগ তুলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ায় জামাল উদ্দিন । পরে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও করা হয়। জিহাদিদের হাতে খুন হয়ে যাওয়ার ভয়ে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিদ্যালয়ে যাননি সুরজিৎবাবু এবং বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে ছিলেন । রবিবার তিনি ইউএনও ও থানার ওসিকে জানিয়ে বিদ্যালয়ে গেলে জিহাদিদের হাতে আক্রান্ত হন । সুজিৎ কর্মকার বলেন, সুস্থ হওয়ার পর আমি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবো ।
তবে জামাল উদ্দিনঅভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কিছু অভিভাবক প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দিয়েছেন। আমার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কোনো বিরোধ নেই। কেন তিনি আমাকে দায়ী করছেন, তা বুঝতে পারছি না।’
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারহানা ডেইজি বলেন,’সুজিৎ কর্মকারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ভাব দেখা গেছে। আমরা তাকে চিকিৎসা দিচ্ছি।’ ডামুড্যা থানার ওসি মহম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘প্রধান শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে- এমন অভিযোগ পেয়েছি। তবে ওই শিক্ষক এখনো লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে প্রধান শিক্ষক তাকে জানিয়েই স্কুলে গেলে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা কেন করা হয়নি, এর উত্তর দেননি ওসি ।
ইউএনও ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আইয়ূবী বলেন,’স্থানীয় কিছু ঝামেলার কারণে প্রধান শিক্ষক প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসতে পারছিলেন না। তিনি বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে ছিলেন। গতকাল বিদ্যালয়ে আসার সময় বিদ্যালয়ের গেটে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। খবর পেয়ে আমি সেখানে পুলিশ পাঠাই। তিনি এখনো লিখিত অভিযোগ দেননি।’।
