এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০৯ জুন : ৯০ শতাংশের অধিক মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা ঠিক কি প্রকার চাপের মধ্যে আছে, তার প্রমান মিললো বাংলাদেশের সংসদে । ইসলামি কট্টরপন্থীদের রোষ থেকে বাঁচতে হিন্দু মহিলা সাংসদকে সংসদে ঢুকতে গিয়ে বিসর্জন দিতে হয়েছে নিজের ধর্মীয় স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য। সম্প্রতি মতুয়া সম্প্রদায়ের রাজমাতা এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সুবর্ণা ঠাকুরের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়া সামনে এসেছে । ছবিতে সিঁথিতে সিঁদূর লাগাতে এবং হাতে শাঁখা ও পলা পরতে দেখা যায়নি তাকে । যেখানে ঠিক তার পিছনে একজন মুসলিম মহিলা সাংসদকে হিজাব পরে থাকতে দেখা গেছে ।
হিন্দু বধূদের সিঁথিতে সিঁদূর লাগানো এবং হাতে শাঁখা ও পলা পরা পবিত্র ঐতিহ্য । কিন্তু ইসলামি কট্টরপন্থীদের রোষানল থেকে বাঁচতে সুবর্ণা ঠাকুরকে বিসর্জন দিতে হয়েছে তার ধর্মীয় ঐতিহ্য । তাঁর সনাতনী রূপের এই আকস্মিক পরিবর্তন দেখে সাধারণ সনাতনীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সনাতনীদের অধিকার ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে সোচ্চার হওয়া একাধিক ব্যক্তি সুবর্ণা ঠাকুরের এই পরিবর্তনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। অনেকেই অতীতে বিএনপির নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরীর উদাহরণ টেনে বলছেন, রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কারণে হয়তো অনেকেরই ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতি টান বা শ্রদ্ধা কম থাকে, কিংবা কেউ কেউ কেবল ফ্যাশনের জন্য সিঁদুর পরেন। কিন্তু সুবর্ণা ঠাকুরের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি হিন্দুদের একটি বিশাল গোষ্ঠীর আইডল বা আদর্শ। একজন মতুয়া ভক্তের কাছে যেখানে আচার মালার গুরুত্ব অপরিসীম, সেখানে রাজমাতা সুবর্ণা ঠাকুরকে সবসময় সনাতনী ঐতিহ্যের ধারক হিসেবেই দেখা গেছে। অথচ সাংসদ হিসেবে প্রথম দিন পার্লামেন্টে যাওয়ার পরই তাঁর মাথায় সিঁদুর উধাও হয়ে যায়, সিঁথি হয়ে পড়ে সম্পূর্ণ ফাঁকা; কপালে শোভা পায় কেবল একটি ছোট টিপ। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে একজন ধর্মীয় ও সামাজিক নেত্রীর এমন আকস্মিক রূপবদল সনাতনী সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। নেটিজেনদের মনে এখন বড় প্রশ্ন-বাংলাদেশের পার্লামেন্টে বা সংসদ ভবনে কি সিঁদুর পরে যাওয়া নিষিদ্ধ? এমন কি কোনো অলিখিত নিয়ম বা প্রটোকল আছে যার কারণে একজন নারী সংসদ সদস্যকে তাঁর ধর্মীয় ও বৈবাহিক প্রতীক ‘সিঁদুর’ মুছে ফেলতে হয়? সাধারণ মানুষের দাবি, কেউ মাত্র এমপি হয়ে রাতারাতি নিজের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এভাবে বদলে ফেলতে পারেন না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালনের পূর্ণ মানবাধিকার রয়েছে। সেখানে একজন সনাতনী জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ সনাতনী সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞা ও অনীহা প্রকাশ করে বলে মনে করছেন ক্ষুব্ধ ভক্তরা। সনাতনী সমাজ এখন এই রহস্যের সঠিক ব্যাখ্যা এবং নিজেদের ধর্মীয় অধিকার ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষার দাবি জানাচ্ছে । কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সনাতনীদের নিজেদের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখাটাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।।
